ফাইল ছবি

পুরুলিয়া: বিয়ের ৮ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সন্তান জন্ম না হওয়ায় অপরাধে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৮ বছর আগে পুরুলিয়া জেলার বাঘমুণ্ডি থানার বুকাডি গ্রামের ১৬ বছরের যুবতী যমুনা কুমারের সঙ্গে বাঘমুণ্ডির সারজুমাহাতুরের পাড়ন্ডিকর গ্রামের বাসিন্দা রামপদ কুমারের বিয়ে হয়। কিন্তু, বিয়ের বছর খানেক পার হয়ে গেলেও যমুনার কোনও সন্তান না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে গিয়েছিল বালিকাবধূ যমুনা কুমারের ওপর৷ ভাগ্যক্রমে গত বছর যমুনার গর্ভে সন্তান এলেও পরে মৃত সন্তানের জন্য দেন ওই গৃহবধূ৷ মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকেই শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালেতে শুরু করে৷ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর ছিল নিত্যদিনের ঘটনা৷ শনিবার গভীর রাতের বালিকাবধূর ওপর অত্যাচারের চরমে ওঠে৷ অভিযোগ, শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা গৃহবধূর ওপর চরাও হয়৷ শ্বাসরোধ করে বালিকাবধূকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ৷

শুক্রবার গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে বুকাডি গ্রামে যান  মৃত গৃহবধূর বাপের বাড়ির সদস্যরা৷ গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে বাঘমুণ্ডির থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল পাঠায়৷ এদিনের এই ঘটনায় মৃত বধূর বাবা প্রফুল্ল কুমার, শাশুড়ি গঙ্গা কুমার সহ স্বামী রামপদ কুমার,শ্বশুর আখনু কুমার ও দূর সম্পর্কের এক দেওরের স্ত্রী সুন্দরা কুমারের নামে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শাশুড়ি গঙ্গা কুমারকে গ্রেফতার করে পুরুলিয়া আদালতে তোলে পুলিশ৷ আদালত ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গৃহবধূ খুনে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও বাকি তিন অভিযুক্ত এখনও অধরা৷ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাসি শুরু করেছে পুলিশ৷