নৈনিতাল: দেখতে পুরুষের মতো৷ পুরুষের মতোই তার চালচলন৷ ফেসবুকে মাধ্যমে এমন ‘পুরুষের’ সঙ্গে আলাপ হয় বহু মহিলার৷ কিন্তু প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন দুই মহিলা৷ কিন্তু বিয়ের পর জানা যায়, যাকে দেখতে পুরুষ সে যে আসলে নারী৷ পুরুষ সেজে তাদের বিয়ে করেছে সে৷ পরে প্রতারণা সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

ঘটনাটি উত্তরাখন্ডের নৈনিতালের৷ বৃহস্পতিবার নৈনিতালের পুলিশ সুপার জন্মেজয় খান্দুরি জানান, ধৃতের নাম কৃষ্ণা সেন ওরফে সুইটি সেন৷ টাকার লোভেই পুরুষ সেজে মহিলাদের বিয়ে করত সে৷ এমনটাই জানান তিনি৷ খান্দুরি বলেন,‘‘ ফেসবুকের মাধ্যমে মেয়েদের সঙ্গে পরিচয় করত সে৷ নিজেকে আলিগড়ের ব্যবসায়ীর ছেলে বলে পরিচয় দিত৷ ২০১৩ সালে কৃষ্ণা সেন নামে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলে৷ সেখানে মহিলাদের সঙ্গে গল্প গুজব করে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাত৷

এভাবেই এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় তার৷ সম্পর্ক তেরি হয়৷ পরে তা গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত৷ কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রীকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে সে৷ তার কাছ থেকে ৮.৫ লক্ষ টাকা নেয় কৃষ্ণা৷ স্ত্রীকে বলে, কারখানা করার জন্য এই টাকা লাগবে৷ এই ভাবে আরও এক মহিলাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সে৷ তার কাছ থেকেও লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় সে৷

পরে দুই স্ত্রী কৃষ্ণার আসল পরিচয় জানতে পারে৷ কৃষ্ণার দ্বিতীয় স্ত্রী হলদওয়ানি পুলিশ থানায় ‘স্বামীর’ বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়৷ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে৷

পুলিশের জেরায় কৃষ্ণা জানিয়েছে, ছোটবেলা থেকে তাকে দেখতে টম বয়ের মতো৷ তখন থেকেই ছেলে সেজে থাকত সে৷ সবসময় নিজের চুল ছোট রাখত৷ ছেলের ইমেজ ধরে রাখার জন্য বাইক চালাত৷ এমনকি ধূমপান করত৷ বিয়ের পর স্ত্রীদের সঙ্গে সেক্স টয় দিয়ে যৌন সংসর্গ করত৷ ইতিমধ্যে পুলিশ তার শারীরিক পরীক্ষা করিয়েছে৷ তাতেও তার মহিলা হওয়ার প্রমাণ মিলেছে৷