হায়দরাবাদ: রাস্তা থেকে শিশুকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। জানা যায়নি তার পরিচয়। তবে বেঁচে ছিল শিশুটি এবং খুব কাঁদছিল।

বাচ্চা শিশু খিদের জ্বালায় কাঁদছে তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি উদ্ধারকারী পুলিশ রবিন্দরের। নিজের বাড়িতেও এক শিশু সন্তান রয়েছে। বাবা হিসেবে অল্প সময়ে শিশুদের মনের অবস্থা বোঝার ক্ষমতা তার হয়েছে।

প্রতীকী ছবি

এই অবস্থায় শিশুটির খিদে মেটানোটাই ছিল কনস্টেবল রবিন্দরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। উপায় বলতে মাথায় এসেছিল স্তন্যপান করানোর ভাবনা। আর এই ক্ষেত্রে রবিন্দরের একমাত্র মাথায় প্রথম যে নামটা মাথায় আসে তা হল প্রিয়াঙ্কা। রবিন্দরের স্ত্রী হলেন প্রিয়াঙ্কা। ইনিও পেশায় পুলিশের কনস্টেবল। অবশেষে পুলিশ কনস্টেবলের হাতে উদ্ধার হওয়া শিশুটি অপর এক পুলিশ কনস্টেবল মায়ের দুধ খেয়েই খিদে মেটাল। একই সঙ্গে ফিরে পেল নবজীবন।

ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী শহর হায়দরাবাদে। নিজামের শহরে সোমবার সকালে এক শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে হায়দরাবাদ পুলিশের কনস্টেবল রবিন্দর। ক্ষুধার্থ সেই শিশুটিকে মাতৃদুগ্ধ পান করিয়ে প্রাণ দিয়েছেন রবিন্দরের স্ত্রী এবং হায়দরাবাদ পুলিশের কনস্টেবল প্রিয়াঙ্কা। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় প্রশংসিত হয়েছে ওই পুলিশ দম্পতি।

কনস্টেবল প্রিয়াঙ্কা

পরিচয়হীন শিশুকে মাতৃদগ্ধ পান করানো প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন যে আমার স্বামী রবিন্দর আফজলগঞ্জ থানার কনস্টেবল। রবিবার রাতে তিনি একটি বাচ্চা উদ্ধার করেন। তাঁর কথায়, “বাচ্চাটা খুব কাঁদছিল। কান্না দেখে রবিন্দর আমায় ফোন করে। আমি একটা ক্যাব বুক করে তাড়াতাড়ি আফজলগঞ্জ থানায় পৌঁছে যায়।” প্রিয়াঙ্কা আরও বলেছেন, “শিশুটি খিদের জ্বালায় কাঁদছিল। বাড়িতে আমার একটা ছোট সন্তান রয়েছে। আমি শিশুদের কষ্ট বুঝি।”

এক শিশুর জীবন বাঁচাতে কনস্টেবল দম্পতির উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে হায়দরাবাদ পুলিশ। ওই দম্পতিকে পুরষ্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চারমিনারের শহরের নগরপাল।

প্রতীকী ছবি