নয়াদিল্লি: দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। তারই প্রতিবাদ জানিয়ে বিপাকে পড়লেন এক তরুণী। ‘আমার ভারতে আমি কেন নিরাপদ বোধ করছি না’, এই বার্তা প্ল্যাকার্ডে ঝুলিয়ে ঘোরাতেই পুলিশ তাঁকে আটক করে।

বছর কুড়ির তরুণী অনু দুবে শনিবার সংসদ চত্বরে ‘হোয়াই আই কান্ট ফিল সেফ ইন মাই অউন ভারত’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ফুটপাথে বসেছিল। সংসদের ২ নম্বর এবং ৩ নম্বর গেটে তাঁকে দেখা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বছর কুড়ির তরুণীকে জন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে বলা হলে সে যেতে অস্বীকার করে। এই ঘটনার পরেই পুলিশের গাড়িতে করে তাঁকে পার্লামেন্ট স্ট্রীট পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ শুনে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনু দুবে জানিয়েছেন, “তিনি সরকারী আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে চান।” এই প্রসঙ্গে দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতি মালিয়াল অভিযোগ করেছেন, ওই মহিলাকে পুলিশ মেরেছে।

গত বুধবার হায়দরাবাদের কাছে শমসদাবাদ থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন এক তরুণী পশুচিকিৎসক। ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণীর দগ্ধ দেহ পাওয়া যায় বৃহস্পতিবার। ধর্ষণ ও খুনের দায়ে আপাতত চার যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের তিনজনের বয়স ২০ বছর অপরজনের ২৬।

তাদের নাম মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন ও চিন্তাকুন্তা চেন্নাকাসাভুলু। চারজনেরই বাড়ি নারায়ণপেট নামে এক জায়গায়। সেই শহর হায়দরাবাদ থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে। তারা লরির ড্রাইভার ও ক্লিনার হিসাবে কাজ করত। হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে অনেক মহিলারাই জানিয়েছেন যে, অনু দুবেকে পুলিশ মেরেছে। অভিযোগ মহিলা পুলিশরা তাঁর গা’য়ের উপর উঠে তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেছেন। এছাড়াও তাঁর গায়ে সেফটিপিন ফুটিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।

দিল্লি মহিলা কমিশনের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, অনু দুবের বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগ আনা হয়েছে। যে তিনজন পুলিশ তাঁকে অত্যাচার করেছেন তাঁদেরকে সাসপেন্ড করার দাবিও জানানো হয়েছে। দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যানের প্রশ্ন, “যারা প্রতিবাদ জানাবে, তাদের কি এই অবস্থাই হবে?” দিল্লি পুলিশ অবশ্য মারধরের কথা অস্বীকার করেছে।