নৈনিতাল : সদ্য বিয়ে হয়েছিল বছর পঁচিশের তামান্নার৷ নৈনিতাল গিয়েছিলেন হানিমুন করতে৷ কিন্তু মধুচন্দ্রিমা সুখকর হল না৷ পাহাড় থেকে পড়ে মৃত্যু হল তাঁর৷

দিল্লিতে থাকতেন তামান্না৷ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২৫০ ফিট উপরে বরের সঙ্গে গিয়েছিলেন মধুচন্দ্রিমা করতে৷ সময় ভালোই কাটছিল৷ সেই ভালো মুহূর্ত চিরস্মরণীয় করে রাখতে সেলফি তুলতে গিয়েছিলেন তিনি৷ তখনই দুর্ঘটনা ঘটে৷ সেলফি তোলার সময় হঠাত্ই সাপ দেখে ভয় পেয়ে যান তামান্না৷ ব্যালেন্স হারিয়ে খাদে পড়ে যান তিনি৷

তামান্নার স্বামী সদাব এই বিবৃতিই দিয়েছেন৷ কিন্তু তামান্নার ভাই একথা মানতে নারাজ৷ তাঁর মতে, এর পিছনে রয়েছে পণ সংক্রান্ত সমস্যা৷ পণ দিতে রাজি না হওয়ায় দিদিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷

তাল্লিতাল থানার অফিসার প্রমোদ পাঠক জানান, নৈনিতাল হাসপাতালে পৌঁছনোমাত্রই মৃত্যু হয় তামান্নার৷ ময়নাতদন্তের পর তামান্নার দেহ তাঁর বাবা মহম্মদ সাব্বিরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তিনি সকালেই এসে পৌঁছেছেন৷

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে বিয়ে হয় তামান্নার৷ তারপর তাঁরা নৈনিতালে মধুচন্দ্রিমা করতে আসেন৷ ১৫ জানুয়ারি গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বের হন তাঁরা৷ রাস্তায় অসুস্ত লাগছে বলে চালককে গাড়ি থামাতে নির্দেশ দেন তামান্না৷ এরপর তিনি ও তাঁর স্বামী সদাব গাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে যান৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই গাড়ির চালক জানিয়েছেন তামান্না ও সদাব গাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশে ছোটো পাঁচিলে বসেছিলেন৷ হঠাত্ তিনি একটি চিত্কার শুনতে পান৷ সদাব তার পরেই চালককে জানান তামান্না একটি সাপ দেখতে পেয়েছে৷ ব্যালেন্স হারিয়ে সে কাদে পড়ে গিয়েছে৷ সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের খবর দেওয়া হয়৷ তামান্নাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে৷

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ এখনও পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি৷