স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর ওপর জঙ্গি হানার ঘটনার পর সোশাল সাইটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে এক যুবতী৷ ওই পোস্টে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যও করে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটির দেবীনগরের শতাব্দী দে রায়চৌধুরী৷

পোস্টটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠে বিতর্কের ঝড়। পুলিশ এই ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে যুবতীর এক বন্ধুকে আটকও করে। অভিযুক্তর নাম নিলয় বিশ্বাস বলে জানা গিয়েছে। রাতে যুবতীর বাড়িতে ভাঙচুর করে স্থানীয়রা। ঘটনা সামাল দিতে ময়দানে নামে নিমতা থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে মূল অভিযুক্ত শতাব্দী পলাতক।

প্রসঙ্গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালায় পাক মদতপুষ্টজঙ্গিরা। বিস্ফোরণে শহিদ হন সিআরপিএফের ৪৫ জন জওয়ান। জঙ্গি হামলা নিয়ে সোশাল সাইটে বিতর্কিত পোস্ট করেন বিরাটির দেবীনগরের শতাব্দী দে রায়চৌধুরী।

সোশাল সাইটে তিনি লেখেন, “যদি ভারতীয় সেনা জওয়ানদের বদলে পাকিস্তানের সেনা জওয়ানরা এভাবে মরত, তাহলে কোথায় থাকত মানুষের প্রতি তোমাদের এত প্রেম ? দেশপ্রেম যে আছে, নেতাজির জন্মদিন না আসলে তা জানতেই পারতাম না। সেনা জওয়ানরা শহিদ না হলে হয়ত জানতই পারতাম না তোমাদের মধ্যে এত দেশপ্রেম আছে। আমি বুঝি না সেনা জওয়ানদের নিয়ে কীসের এত মাতামাতি।”

এই পোস্টের পরই সোশাল সাইটে বিতর্কের ঝড় ওঠে। পোস্টটি লালবাজারের গোচরে আসলে তারা নিমতা থানাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। গতরাতে যুবতীর বাড়িতে যায় পুলিশ। কিন্তু, যুবতী পলাতক থাকায় তাঁকে আটক করা যায়নি৷

তবে পোস্টটিকে সমর্থন জানানোর অভিযোগে নিলয় বিশ্বাস নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি যুবতীর বন্ধু বলে জানা গিয়েছে৷ এদিকে, পুলিশ চলে যাওয়ার পরই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। যুবতীর বাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।

যুবতীর বাবা পেশায় চা বিক্রেতা। তার দাবি তিনি জানতেন না তার মেয়ে এই কান্ড ঘটিয়েছে। তিনি বিষয়টিকে সমর্থন করেন না বলে জানান। যদিও মেয়ে কোথায় রয়েছে এ বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে সাইবার ক্রাইমের ধারায় অভিযুক্ত যুবতীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।