পূর্ব বর্ধমান: ভোট কেন্দ্রে যেতে যেতেই ওঠে প্রসব যন্ত্রণা৷ তারপর ভোট দিয়ে সোজা ভরতি হন হাসপাতালে৷ সেখানে জন্ম দেন ফুটফুটে কন্যা সন্তানের৷ মা-বাবার ইচ্ছা মেয়ের নাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে রাখার৷

আজ ৭২টি লোকসভা কেন্দ্রের মতো বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনে ভোট৷ মন্তেশ্বরের বালিজুরি গ্রামে গর্ভবতী স্ত্রী ফিরোজা বিবিকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসেন সুরাফুদ্দিন শেখ৷ ভোট দিতে যাওয়ার সময় যন্ত্রণা অনুভব করেন। তারপর ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে ইভিএমে বোতাম প্রেস করার পরই চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই প্রসূতি।

সেখান থেকেই মাতৃযানে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্তেশ্বর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে৷ অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে জন্ম দেন এক কন্যা সন্তানের। আর ভোটের দিন কন্যা সন্তানকে পেয়ে প্রিয় নেত্রীর নামেই মমতা নাম রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মন্তেশ্বরের এই তৃণমূল কর্মী। আর ভোট উৎসবে নতুন অতিথিকে পেয়ে খুশির হাওয়া মন্তেশ্বরের বালি জুরি গ্রামে।

কন্যা সন্তানের বাবা সুরাফুদ্দিন শেষ জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুবই পছন্দ করেন। ভোট দেওয়ার পরই তাঁর স্ত্রী ফিরোজা বিবি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তাই খুশি হয়েই মেয়ের নাম রাখতে চান মমতা৷ এদিকে তাদের লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতাজ সংঘমিতা৷ তাঁর নামেও মেয়ের নাম রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

অন্তঃসত্ত্বা থাকা স্বত্ত্বেও ভোট দিতে চেয়েছিলেন ফিরোজা বিবি৷ তাই অসুস্থ হয়েও মনের জোরে রওনা দিয়েছিলেন মন্তেশ্বরের বালিজুরি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২ নম্বর বুথে। পৌঁছেও গিয়ে ভোট দেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই শুরু হয় তাঁর প্রসব যন্ত্রণা। সেখান থেকেই স্থানীয় মানুষজন ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে যান গ্রামের অসংখ্যা মানুষ। সকলেই প্রচন্ড চিন্তায় ছিলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে সুখবর। ফিরোজা বিবি জন্ম দেন সেই ফুটফুটে কন্যা সন্তানের। যার পরেই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, দুজনেই সুস্থ। হাসি ফোটে সকলের মুখে। ওই কন্যা সন্তানের বাবা সারিফুদ্দিন পেশায় চাষি। সামান্য আয়েই দুই কন্যা ও স্ত্রী নিয়ে সংসার। তবে মুখ্যমন্ত্রী নানা সরকারি সাহায্য দেওয়ায় তাঁরা তৃণমূল দলের সমর্থক।

তিনি বলেন, “মেয়ে ও মা সুস্থ আছে। মেয়ে হওয়ায় খুবই ভাল লাগছে। ঠিক করেই রেখেছি মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই ওর নাম রাখব মমতা বা মমতাজ। যাতে প্রার্থীর নামেরও মিল আছে।” শিশুর মা হাসপাতালের বেডে শুয়েই মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বলেন,”ভোট দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সেই জন্যই কষ্ট করেই ভোট দিতে যাচ্ছিলাম। তাই এই দিনটা কোনও দিন ভুলতে চাই না।”