সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: মেয়েদের কাজ শুধু ঘরকন্না করা। মেয়েরা ম্যানেজার ঘরের কিন্তু বাইরে? সে কাজে পুরুষ ‘সিংহরাই’ শ্রেষ্ঠ। আর ব্যবসা! আজ থেকে বছর ৩০ আগেও যা অসম্ভব বলেই সর্বজন স্বীকৃত ছিল। প্রচলিত সমস্ত ধ্যান ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিলেন উবেলাইন সালধানা। ৮০ বছর ধরে নারী স্বাধীনতার মুখ হয়ে এখনও ক্রমবর্ধমান ‘সালধানা বেকারি’।

শহর জুড়ে আজ কেকের মরসুম। বড়দিনে প্রত্যেক ঘরে যখন ব্রিটানিয়া, উইনকিজের মতো ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা বেকারি শিল্পের চাহিদা তখন সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত এক জিউইশ বেকারি যেন সমাজকে এক অন্য বার্তা দেয়। বার্তা নারী স্বাধীনতার, নারী ক্ষমতার। সে আশি বছর আগের কথা। এ কলকাতা তখন ইংরেজদের ক্যালকুটা। সমাজে তখন পর্দাপ্রথার ছড়াছড়ি।

মেয়েরা তখন শুধুই ঘরের লক্ষীটি। কিছু ব্যতিক্রমের মধ্যে যেমন নারী স্বাধীনতার ধ্বজা উড়িয়েছিলেন রানী রাসমণি, কিংবা মাতঙ্গিনী হাজরা মতো বাংলার মেয়েরা তেমনই সেই জয়ধ্বজাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ‘জিউইশ’ উবেলাইন সালধানা। নাতনী ডেবরা আলেকজান্ডার বলেন, “সত্যি, আজ থেকে আশি বছর আগে একজন মহিলার মাথা থেকে বিজনেস প্ল্যান বেরোচ্ছে এটা বিশেষ শোনা গিয়েছে বলে আমার মনে হয় না। কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা সবার থেকে আলাদা ভাবে চলতে পারেন। সেই তালিকায় আমার ঠাকুমা অবশ্যই পড়বেন আর আমার দাদু এগনেসিয়াস সালধানার কথাই বা বাদ দিয়ে দি কি করে। উনি স্ত্রী’য়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ঠাকুমা রান্না করতে ভালোবাসতেন। বিভিন্নরকম চিন্তাভাবনা তার মাথায় সবসময়েই ঘুরে বেড়াত। সেখান থেকেই বেকারি ব্যবসা শুরু করার ভাবনা।” তখন হগ মার্কেট মাতাচ্ছে নাহুমস, ফিরপো’র মতো পুরুষ মস্তিস্ক প্রসূত বেকারি ব্যবসা। সেই সময়েই লড়াইয়ে নামলেন উবেলাইন এবং তালতলার গলি থেকেই সেই জয়যাত্রা বজায় রাখলেন।

ধীরে ধীরে সংস্থা আশি পেরিয়েছে নাতনী ডেবরা এবং তাঁর কন্যা আলিশার হাত ধরে। প্রপিতামহীর রক্ত বইছে আলিশার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। বিদেশ থেকে কেক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। মায়ের সঙ্গে পারিবারিক বেকারি ব্যবসায়ে হাত লাগিয়েছেন তিনিও। আলিশা বলেন, “মূল্যবৃদ্ধি হলেও আমি বা আমার পরিবার চাই না কনওভাবে আমাদের প্রোডাক্টের মান কমুক। তাই দাম কুড়ি টাকা করে দাম বাড়াতেই হয়েছে। ফ্রুট কেক ৩০০ , ওয়াল নাট কেক ৩২০ টাকা করা হয়েছে। আমরা ভাগ্যবান এত বছর পরেও আমাদের চাহিদা একটুও কমেনি। ক্রিসমাসের জন্য সবাই এখানে আগে থেকে অর্ডার দিয়ে যান। চাহিদা মতো আমরা হাতে গরম কেক বানিয়ে দি।”

ওয়াল নাট, ফ্রুট কেকের পাশাপাশি এখন সালধানা বানাচ্ছে ‘ফ্রেঞ্চ ম্যাকরুন’, প্রফেডো, ‘একলেয়ার্স’-এর মতো নতুন বেকারি প্রস্তুত খাদ্যগুলি। বানাচ্ছেন ‘চিকেন প্যাটিস’,’চিকেন কিজ’ও। যেগুলি যথেষ্ট জনপ্রিয়। রাখতে শুরু করেছেন বিভিন্ন ধরণের ভেজ আইটেমও। চেস্টা চলছে ব্র্যান্ড হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার। লড়তে প্রস্তুত সালধানা লেডিজ।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও