প্রতীকী ছবি

কলকাতা: রাতের শহরে ফের ঘটল গণধর্ষণের ঘটনা। রাত বাড়লে কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।পঞ্চসায়রের হোমে থাকা এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে সোনারপুরের কাছে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ। ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর কার্যত ক্ষতবিক্ষত অবস্থাতেই ট্রেনে করে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপরেই পরিবারের কাছে সব কিছু খুলে বলেন নির্যাতিতা। ইতিমধ্যে পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

এই বিষয়ে নির্যাতিতার দিদি জানিয়েছেন, আক্রান্ত তরুণী একটি হোমে থাকতেন। রাত তিনটে নাগাদ হোমের দরজার তালা ভেঙে রাস্তায় বেরোন ওই তরুণী। কিছুটা এগিয়ে যেতেই একটি সাদা গাড়িতে থাকা দুই যুবক তাঁকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয় বলে অভিযোগ তাঁর। শুধু তাই নয়, ওই গাড়িতেই তরুণীর উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয় বলেও অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, পঞ্চসায়র থেকে অদূরেই একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এখানেই না থেমে আবারও জোর করে গাড়িতে তোলা হয় তাঁকে। চলতে থাকে অকথ্য অত্যাচারও। একাধিকবার শারীরিক নির্যাতনের ফলে একসময়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই তরুণী। এরপর গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে সোনারপুরের একটি পরিত্যক্ত মাঠে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা, এমনটাই অভিযোগ।

আক্রান্ত দিদির দাবি, জ্ঞান ফিরলে ওই অবস্থাতেই সোনারপুর স্টেশনে এসে পৌঁছন আক্রান্ত মহিলা। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে কোনও রকমে বালিগঞ্জ পৌঁছে নিজের বাড়িতে আসেন ওই মহিলা। এরপরেই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায় নির্যাতিতার পরিবার।

পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। পঞ্চসায়র এবং সোনারপুর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সারা শহরজুড়েই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযুক্তরা শীঘ্রই ধরা পড়বে।
মধ্যরাতে কলকাতার বুকে এই বীভৎস ঘটনায় শিউড়ে উঠেছে শহরবাসী। এই ঘটনায় শহরে পুলিশি নিরাপত্তার উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষেরা।