ঢাকা: বিরোধী দলের প্রতীকে ভোট দিয়েছিলেন। শুধু দিয়েছিলেন বললে একটু ভুল হবে, বুথের মধ্যে শাসকদলের নেতার নির্দেশ অমান্য করে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। সেই অপরাধে গণধর্ষণের শিকার হতে হল গৃহবধূকে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের নোয়াখালী এলাকায়। রবিবার বাংলাদেশে হয়ে গিয়েছে জাতীয় নির্বাচন। বিশাল জনাদেশ নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরেছে আওয়ামি লীগ। তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। এই নির্বাচন নিয়ে রিগিং এবং সন্ত্রাসের একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে বিরোধী শিবিরের।

সেই সকল বিষয় ছাপিয়ে গিয়েছে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায়। চার সন্তানের জননী বছর ৩৫-এর ওই মহিলাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপরে ১২ থেকে ১৫ জন মিলে অত্যাচার চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সকলেই আওয়ামি লিগের সদস্য। নৌকার স্থানীয় নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য রুহুল আমিনের অনুগামী বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতা।

নির্যাতিতার বয়ান অনুসারে, রবিবার গভীর রাতে তাঁর বাড়ির দরজা ধাক্কায় কয়েকজন। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেওয়ায় গভীর রাতে দরজা খুলতে দ্বিধা করেনি কেউ। কিন্তু সেই ভাবনাটাই কাল হল। বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সেই গৃহবধূর উপরে যৌন নির্যাতন চালালো আগন্তুকেরা। এখানেই শেষ নয় নির্যাতনের কাহিনী। কারণ গৃহবধূকে উঠিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি দুর্বৃত্তেরা। যাওয়ার সময়ে ওই বাড়ি থেকে লুট করেছে নগদ ৪০ হাজার টাকা, সোনার গয়না এবং অন্যান্য দামই জিনিসপত্র। পাশাপাশি ওই মহিলার স্বামী এবং চার সন্তানকে বেঁধে রেখে যায় তারা।

সমগ্র রাত নির্যাতন সহ্য করে সোমবার সকালে মুক্তি মেলে ওই মহিলার। সোমবার দুপুরের দিকে প্রতিবেশীদের সাহায্যে চিকিৎসার সুযোগ পান ওই নির্যাতিতা মহিলা। তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। চিকিৎসক শ্যামল কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন যে গণধর্ষণের যাবতীয় চিহ্ন ওই মহিলার শরীরে রয়েছে। সেই সঙ্গে আরও অনেক ক্ষত চিহ্ন আছে বলেও জানিয়েছেন শ্যামলবাবু।

ফাইল ছবি

 

গণধর্ষণের খবর ফাঁস হলে অটো-রিক্সা চালক স্বামী সহ চার সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে যায় দুষ্কৃতিরা। অভিযুক্ত সকলকেই ওই মহিলা চেনেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে দুর্বৃত্তেরা হল, “মোশারেফ, সালাউদ্দিন সোহেল, হেঞ্জু মাঝি, বেচু, জসীম, সোহেল(দ্বিতীয়), আবুল কালাম, স্বপন, আনোয়ার, বাদশা আলম, হানিফ, আমির হোসেনসহ আরও কয়েক জন ব্যক্তি।” এরা সকলেই স্থানীয় আওয়ামি লীগের কর্মী এবং রুহুল আমিনের অনুগামী বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতা।

রুহুল আমিন কেন এমন কম্ম ঘটাবেন? এই প্রশ্নের জবাবে মহিলার স্বামী বলেছেন, “আওয়ামি লীগের নেতা রুহুল আমার স্ত্রীকে নৌকা চিহ্নে ভোট দিয়ে বলেছিল। বুথের মধ্যে আমার স্ত্রী-র ভোট নিজেই দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার স্ত্রী জোর করে ধানের শীষ চিহ্নে ভোট দেয়। বুথের মধ্যেই রুহুল আমিন আমার স্ত্রীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।” যদিও এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে রুহুল। তার দাবি, “নির্যাতিতা মহিলা আমার আত্মীয় হয়। আমাদের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই। আমি কেন ওর ক্ষতি করতে যাব!” তবে ভোটের সময়ে বুথে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে রুহুল। সে বলেছে, “বুথে দেখা হয়েছিল, কিন্তু কোনও কথা হয়নি।”

ছবি- প্রতীকী

নোয়াখলির চরবাজার থানায় গণধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ওসি নিজামউদ্দিন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে।” তবে এই ঘটনা শুধু ভোট দেওয়ার জন্য নয় বলে মনে করছে পুলিশ। ওসির মতে, “একজন সিএনজি অটো চালকের পরিবার ধানের শীষে ভোট দিলেই কী আসে যায়। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।” নোয়াখালী পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অবশ্যই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”