বুয়েনস এয়ারস: ড্রাগ পাচারের জন্য সারা বিশ্বেই বিভিন্ন পাচারকারীরা নতুন নতুন পন্থা ব্যবহার করে থাকেন। যেভাবেই হোক পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই সেই সমস্ত পন্থার সাহায্য নিতে হয়। পাচারকারীদের ড্রাগ পাচারের নিত্য নতুন কৌশল দেখে প্রায় সময়ই তাজ্জব বনে যেতে হয়েছে বাঘা বাঘা পুলিশ অফিসার থেকে শুরু করে গোয়েন্দা আধিকারিকদের। আর এই সমস্ত ঘটনার খবর আখছাড় শোনা যায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। কিন্তু এক মহিলার ড্রাগ পাচারের অভিনব পন্থা দেখে চোখ কপালে উঠার জোগাড় হয়েছে পুলিশের।

প্রায় পনেরো প্যাকেট ড্রাগ পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই মহিলা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ড্রাগ পাচার কাণ্ডে ধৃত ওই মহিলা আর্জেন্টিনার নাগরিক। শুক্রবার মেন্দজা থেকে সান্তাক্রুজে যাওয়ার পথে পনেরো প্যাকেট ড্রাগ সহ ওই মহিলাকে আটক করেন আর্জেন্টিনা পুলিশ। শুক্রবার একটি টুইটে এই খবর জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট্রিসিয়া বুলরিচ। টুইটে ওই মহিলার ছবি শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, ফলস বেবি ব্যাম্প বানিয়ে মেন্দজা থেকে সান্তাক্রুজে ড্রাগ পাচার করার পথে গ্রেফতার করা হয় ওই মহিলাকে।

আর্জেন্টিনার ‘ডেলি মেইলে’ প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পুলিশ আধিকারিকরা একটি কোচে অভিযান চালাছিল যেখানে ওই মহিলা অন্য একজনের সাথে ভ্রমণ করছিল। সেখান থেকেই একটি কালো ব্যাগ থেকে গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ আধিকারিকরা। আর্জেন্টিনার পুলিশ জানিয়েছেন, ওই মহিলাকে দেখে প্রথমেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। পড়ে আটক করতেই গাঁজা পাচারের বিষয়টি সামনে আসে। যেটি কিনা সে তার নকল বেবি ব্যাম্পের সাহায্যে অন্য জায়গায় পাচার করার চেষ্টা চালাছিল। এবং পরে পুলিশ এটাও আবিস্কার করতে সমর্থ হয় যে, ওই মহিলার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটি আর কেউ নয় তিনি হলেন ওই মহিলার স্বামী।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নকল ওই বেবি ব্যাম্পটি পেস্ট দিয়ে বানানো হয়েছে। এবং তারমধ্যেই ওই গাঁজা গুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিকে গাঁজা পাচার কাণ্ডে ওই মহিলার সঙ্গে তার স্বামীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা পুলিশের মুখপাত্র ‘ডেইলি মেলকে’ জানিয়েছে, গাঁজা পাচারের জন্য দুই আর্জেন্টিনার নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, ‘একজন যাত্রী একটি কালো ব্যাগে দুটি গাঁজা ইট নিয়েছিলেন। তাঁর পাশে ছিলেন এক যুবতী, যিনি গর্ভবতী ছিলেন। পুলিশ আধিকারিকরা তাকে গাড়ি ছেড়ে যেতে বলে ছিল এবং তাঁরা এটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে সে মাদকও বহন করছে তবে তার ব্যাম্পের ভিতরে কোনও বাচ্চা নেই।’