file image

আগ্রা : তিন দিন আগে সুস্থ শিশুকন্যার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হল না। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার এক হাসপাতালে মারা গেলেন করোনা আক্রান্ত মা। পেশায় পুলিশ কর্মী তিনি। ২৭ বছর বয়েসী ওই মহিলা এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তিন দিন পরে বুধবার মারা গেলেন তিনি।

পেশায় কনস্টেবল ওই মহিলা কানপুর জেলার বিলহাউর পুলিশ স্টেশনে কর্তব্যরত ছিলেন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আগ্রার ঈশ্বরনগরে এসেছিলেন নিজের বাপের বাড়িতে। পয়লা এপ্রিলে আগ্রায় যান তিনি।

দোসরা মে লেডি লিয়ল হাসপাতালে এক সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান চৌঠা মে। তখনই তাঁর কোভিড টেস্ট করা হয়। বুধবার সকাল তেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট, কাশি ও জ্বর।

এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে, সেখানে ভর্তি নেননি তাঁরা। পরে বুধবার বিকেলে মারা যান ওই মহিলা কনস্টেবল। যে হাসপাতালে সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি, সেই হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, তাঁর করোনা টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছে।

ওই মহিলা কনস্টেবলের স্বামী একটি বেসরকারি অর্থকরী সংস্থায় কর্মরত। তিনি মহিলার দেহ গাড়িতে রেখে দেন, অপেক্ষা করতে থাকেন স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে তাঁর দেহ নিয়ে যায়। ওই মহিলার স্বামী, তিন দিনের শিশুসন্তান ও শাশুড়িকে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের রক্তের নমুনা কোভিড টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে।

গোটা এলাকা স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সিকান্দ্রার স্টেশন হাউজ অফিসার অরবিন্দ কুমার বলেন মহিলা কনস্টেবলের মৃত্যুর খবর স্বাস্থ্য দফতরকে দেন ওনার স্বামী। তারপর স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের কাজ শুরু করে। দ্রুত মৃতদেহকে সেখান থেকে সরানো হয়।

দেশে মারাত্মক হারে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। শেষ ২৪ ঘন্টায় ভারতে করোনা আক্রান্ত হলেন ৩৫৬১ জন। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৭৮৩ জনের।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ৯৬২ জন। যে কোনও মুহূর্তে এই আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ছুঁতে পারে।

দেশে মোট আক্রান্তের মধ্যে বর্তমানে আক্টিভ কেস রয়েছে ৩৫ হাজার ৯০২টি। সেরে উঠেছেন ১৫ হাজার ২৬৬ জন করোনা রোগী এবং একজন বিদেশ ফিরে গিয়েছেন।

সারা দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ সর্বাধিক। সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৫৮ জন। এরপরেই এই তালিকায় রয়েছে গুজরাত। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬২৫ জন। তালিকায় ৩ নম্বরে রয়েছে রাজধানী দিল্লি। সেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫৩২ জন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব