স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা: গোপন সূত্রে খবর ছিল৷ সেই সূত্র ধরে দেওঘর এক্সপ্রেস থেকে অস্ত্র সমেত এক মহিলাকে গ্রেফতার করল রেল পুলিশ৷ তার কাছ থেকে দুইটি ইতালিয়ান প্রযুক্তিতে তৈরি পিস্তল, তিনটি মায়ানমারে তৈরি পিস্তল, ৬ টি ম্যাগাজিন সহ বেশ কিছু নগদ টাকা উদ্ধার হয়।

বুধবার সকালে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল দেওঘর এক্সপ্রেস। অসমের লামডিং থেকে দেওঘর এক্সপ্রেস আগরতলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর রেল পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে এই বিষয়ে খবর আসে৷ পুলিশ জানতে পারে দেওঘর এক্সপ্রেসের এক মহিলা যাত্রী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আগরতলার যাচ্ছে৷ সেই মত বেশ কয়েকজন মহিলা রেল পুলিশ নিয়ে দেওঘর এক্সপ্রেসে ওঠে পুলিশ৷

অভিযুক্ত মহিলার ছবিও ছিল রেল পুলিশের কাছে৷ ধর্মনগর স্টেশন থেকে দেওঘর এক্সপ্রেসে উঠে তল্লাশি শুরু করে রেল পুলিশ৷ শনাক্ত করা হয় ওই মহিলাকে৷ তারপরেই আমবাসা রেল স্টেশনে আসার পর রেল পুলিশের আধিকারিকরা ঐ মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। তখন মহিলার বক্তব্যে অসঙ্গতি পায় পুলিশ৷

আরও পড়ুন : মমতার পর মোদীর শপথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আরও এক মুখ্যমন্ত্রীর

রেল পুলিশের আধিকারিকরা মহিলার সাথে থাকা দুটি ব্যাগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় মহিলার ব্যাগ থেকে সাথে সাথে শুরু হয় ফের জিজ্ঞাসাবাদ। তখন মহিলা জানায় যে আগরতলা রেল স্টেশনে মহিলার কাছ থেকে এই পিস্তলগুলি নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য লোক থাকার কথা৷

তখনই পরিকল্পনা করে ফেলে পুলিশ৷ খবর পাঠানো হয় আগরতলা রেলপুলিশকে৷ সেখানে ঘাঁটি গাড়েন রেলপুলিশের আধিকারিকরা৷ দেওঘর এক্সপ্রেস আগরতলা রেল স্টেশনে পৌঁছবার পর ওই মহিলাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই মহিলা রেল স্টেশন চত্বরে পৌঁছনোর সাথে সাথে দুই যুবক মহিলার সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে যায়।

তখন রেল পুলিশের আধিকারিকরা সেই দুই যুবককেও আটক করে। এই গোটা ঘটনা সাংবাদিকদের জানান, আগরতলার রেল পুলিশের সহকারী কমান্ডেন্ট এ.কে সিং। তিনি আরও জানান ধৃত মহিলার নাম শৈলরানী চাকমা। বাড়ি গোমতী জেলার নূতন বাজারে। ধৃত দুই যুবকের নাম লরেন্স দেববর্মা ও বিনোদ দেববর্মা। তাদের দুজনের বাড়ি সিপাহীজলা জেলায়।

আরও পড়ুন : বিধায়ক সহ বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের একাধিক নেতা

গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷ ৫ টি পিস্তল ও ৬ টি ম্যাগাজিন উদ্ধারের ঘটনায় এইদিন আগরতলা রেল স্টেশন চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে রেল পুলিশের আধিকারিকরা। তবে কি উদ্দেশ্যে এই পিস্তলগুলি আনা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। এই পিস্তল কাণ্ডের সাথে আর কে কে জড়িত রয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে রেল পুলিশ।