নয়াদিল্লি: ৯৫ বছর বয়স্ক এক মহিলাকে বাঁচালো দিল্লি মহিলা কমিশন ও পুলিশ৷ অভিযোগ ওই বৃদ্ধাকে বন্দি করে রেখেছিল তাঁরই ছেলের বউ৷ জানা গিয়েছে মহিলা হেল্প লাইনে একটি ফোন আসে৷ এক ব্যক্তি ফোন করে জানান তাঁর মাকে বন্দি করে রেখে অত্যাচার চালাচ্ছে তাঁরই স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন৷ ওই ব্যক্তি এও জানান যে তাঁর মা শয্যাশায়ী৷

তিনি এও জানান ওই ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বিয়ের পর থেকেই সমস্যা চলছে৷ তিনি এও জানান যে প্রায় তিন মাস ধরে তিনি তাঁর মাকে দেখেননি৷ ব্যক্তি জানান তিনি যখনই তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন তাঁকে দেখা করার জন্য পুলিশের সাহায্য নিতে হয়েছে৷ কারণ প্রতিবারই তাঁকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি৷ এরপর ওই ব্যক্তি একটি প্রতিবেদন পড়েন মহিলা কমিশন ভাইয়ের কাছে দুবছর ধরে বন্দি থাকা এক ৫০ বছরের মহিলাকে বাঁচিয়েছে৷ তারপরই তাঁর আশা জন্মায় যে ওই ব্যক্তির মাকেও বাঁচানো সম্ভব হবে৷

এরপরই মহিলা কমিশনের একটি দল ওই এলাকায় পৌঁছয় যেখানে বন্দি ছিলেন ওই বৃদ্ধা৷ সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা করতে চায় বৃদ্ধার সঙ্গে৷ কিন্তু প্রথমেই তাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি৷ যদিও, এরপর পরিবারকে বোঝানোর পর তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়৷ তবে একটা শর্তও রাখা হয়৷ অভিযোগ করা ওই ব্যক্তির স্ত্রী জানান তার স্বামীকে লিখিত ভাবে জানাতে হবে যে ওই বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তি আর কখনও ওই বাড়িতে আসবেন না৷ এই মর্মেই লিখিত দেন বৃদ্ধার ছেলে৷

মহিলা কমিশনের সদস্যরা ও পুলিশ ঘরে প্রবেশ করে দেখেন মহিলাকে বেশ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছে৷ তাঁর শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ এবং তাঁর গায়ের উপর রয়েছে একটি পাতলা চাদর৷ বিছানার পাশে রাখা একটি বালতি৷ তাতেই শৌচকর্ম সারতে হয় মহিলাকে৷

সদস্য দল তৎক্ষণাৎ তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে৷ চিকিৎসকরা জানান বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ৷ শরীরের বেশ কিছু জায়গায় মারাত্মক ইনফেকশন রয়েছে৷ তাঁর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন৷

মহিলা কমিশনের কর্তা জানান “এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা৷ একজন ৯৫ বছরের বৃদ্ধাকে এরকম একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছিল৷ তাঁর পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেবে কমিশন৷ আমি অনুরোধ করছি সকলের কাছে, কেউ যদি দেখেন কোনও মহিলার উপর অত্যাচার হচ্ছে বা দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খবর দিন৷ যোগাযোগ করুন আমাদের হেল্পলাইন নম্বর ১৮১ এ৷” ৯৫ বছরের ওই বৃদ্ধা আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ তাঁর ছেলেই মায়ের দেখাশোনা করছে বলে জানা গিয়েছে৷