স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: প্রথমে হুমকি৷ তারপর ভাড়াটে খুনি এনে সাক্ষীকে খুন৷ যাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের মহম্মদবাজারে। ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগে দুই মহিলা ও এক স্থানীয় যুবককে আটক করেছে পুলিশ৷ যদিও কেন খুন তা খোলসা করে কিছু বলতে চায়নি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় ভাগ্নে শেখ শামিম মামা আসাদুল্লাকে ফোন করে বলেছিল, ‘আমি খুন হয়ে যেতে পারি। পিছনে লোক লেগেছে।’ আর এরপরই মঙ্গলবার সকালে মহম্মদবাজারে গ্যাসের দোকানের পিছনে মুখ থ্যাঁতলানো অবস্থায় শেখ শামিমের (২২) দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই শামিম তার পিসতুতো ভাই শেখ নয়নের খুনে অন্যতম সাক্ষী ছিল বলে জানা যায়।

শামিমের বাবা আসগর শেখ জানান, শুধু তার ছেলে নয়৷ তাকেও গত কয়েকদিন ধরে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানায় ছেলেকে সনাক্ত করে পুলিশকে একথা জানান তার বাবা। অন্যদিকে, শামিমের মামা আসাদুল্লা বলেন, ‘‘আমার ছেলে শেখ নয়নের খুনের সঙ্গে এই খুনের যোগ আছে। পুলিশ খুনের দায়ে যে দুই মহিলাকে আটক করেছে তারা এলাকায় অপরিচিত। কিন্তু আটক করা যুবক স্থানীয় রাওতাড়া গ্রামের।’’

বিগত পাঁচ বছর আগে সোঁতশাল গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শেখ নয়ন খুন হয়। সেই ঘটনাকে ঘিরে দু’পক্ষের লড়াই এখনও অব্যাহত। প্রায়ই গ্রামে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। আসাদুল্লার অভিযোগ, তার ছেলের খুনি জানে আলম প্রকাশ্যেই গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের ধরছে না। যদিও পুলিশের দাবি, জানে আলম আদালতের রায়ে জামিনে মুক্ত আছে। গ্রামবাসীদের দাবি, সেই ঘটনার জেরেই এদিন শেখ শামিমকে খুন করা হয়েছে।

শামিমের বাবা আসগর শেখ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ছেলে তাকে ফোনে জানায় গাড়ির টাকা আদায়ে সে মহম্মদবাজার এসেছে। রাতেই নিজের বাড়ি সোঁতশালে ফিরবে। যদিও শামিমের মামা আসাদুল্লা দাবি করে, তাকে ভাগ্নে সাড়ে সাতটার সময় ফোন করে বলে তার পিছনে লোক লেগেছে। সে খুন হয়ে যেতে পারে। পরে পুলিশ যখন দেহ উদ্ধার করে তখন শামিমের কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত বিবস্ত্র ছিল। মুখ পাথর দিয়ে থেঁতলে দিয়ে পরিচয় লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

মহম্মদবাজার থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কি ভাবে খুন করা হয়েছে তার তদন্ত শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের তথ্য খুব জরুরী। সেটি হাতে পেলে তবেই তদন্ত গতি পাবে। অন্যদিকে, গ্রামবাসীরা দাবি করেছে, প্রমাণ লোপাটের জন্য নয়ন খুনের অন্যতম সাক্ষীকে পরিকল্পিত খুন করা হয়। ফের খুনোখুনির রাজত্ব শুরু হল মহম্মদবাজারের সোঁতশাল গ্রামে।