স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে সরকারকে তুলোধনা করেছিলেন৷ আবার সেই শাসক দলেই যোগ দিয়ে জমি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য ভাঙড়ে শহিদের বাবা শুকুর আলির৷ তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ জমি রক্ষা কমিটিরও৷

বৃহস্পপতিবার ভাঙড়ের ভোজেরহাটে যাদবপুর লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর সমর্থনে একটি কর্মিসভা হয়৷ সেই প্রকাশ্য সভায় তৃণমূলে যোগ দিলেন ভাঙড়ে শহিদ মফিজুল ইসলামের বাবা শুকুর আলি খান৷ তার অভিযোগ,সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনকারীরা৷ জমি রক্ষা কমিটির যারা মাথা তাদের একেকজন পেয়েছে ১০-১২ লক্ষ টাকা৷

ফাইল ছবি

তা না হলে ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড তৈরি বন্ধ হয়ে যেত৷ বন্ধতো হলই না, যখন দেখলাম পাওয়ার সাব স্টেশন তৈরি হবেই,তখনই সিদ্বান্ত নিয়েছি জমি রক্ষা কমিটির সঙ্গে আর নয়৷ তাই ওদেরকে ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে আসা৷ আগেও তৃণমূলেই ছিলাম৷ এখন এই কথা বললেও জমি রক্ষা কমিটির সঙ্গে থেকে আগে যা বলেছিলেন তা বেশ চাঞ্চল্যকর৷

ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড বিরোধী আন্দোলনের সময় অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধে ভাঙড়ের হাড়োয়া রোডে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন মফিজুল ইসলাম। তার বাবা শুকুর আলি খান সেই সময় জমি রক্ষা কমিটির অন্যতম মুখ ছিল৷ তখন পাওয়ার গ্রিড বিরোধী বিভিন্ন সভায় তিনি সরকারকে তুলোধনা করেছিলেন৷ শুধু তাই নয়,যার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেন, সেদিন সেই আরাবুল ইসলামের ফাঁসির দাবি তুলেছিলেন শুকুর আলি। সে সময় ক্ষতিপুরন বাবদ পেয়েছিলেন ৮ লক্ষ টাকা৷ সে কথা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন শুকুর আলি৷

ফাইল ছবি

জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতা মির্জা হাসান জানান, শহিদের বাবা শুকুর আলি এখন আরাবুলের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে৷ সরকার ও পার্টি ফান্ড থেকে টাকা নিয়ে শহিদ মফিজুল ইসলামের বউকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে৷ ক্ষতিপূরণের সব টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন৷ তখন জমি রক্ষা কমিটি চাপ দিয়েছিল মফিজুলের বউকে বাড়ি ফেরানোর জন্য৷ তারপর থেকেই কমিটির সঙ্গে শুকুর আলি দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন৷ তবে তার এই দলবদল ভোটে কোনও প্রভাব পড়বে না৷