সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: রাজনৈতিক দলগুলির সৌজন্যে হোলি উৎসব এবার যেন অন্য মাত্রা পেল৷ কোথাও বাদ্যি, কোথাও রঙবাহার- গলি থেকে রাজপথ বসন্ত উত্সবে মাতোয়ারা রাজ্যবাসী। নাচে-গানে-কবিতায় আনন্দ বাহার৷ তবে রঙের উৎসব হোলিকে নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার করে জনসংযোগ বৃদ্ধিতে পিছিয়ে থাকল বিজেপি৷ এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

বৃহস্পতিবার হোলি উৎসবে দিনভর রাজ্য জুড়ে ছিল লাল,নীল আর সবুজ আবিরের ছড়াছড়ি। অথচ সেভাবে দেখা গেল না গেরুয়া আবির৷ কারণ লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষনা না হওয়ায় দলের নেতা কর্মীরা প্রায় ঘরবন্দি থাকলো সারাদিন৷ ব্যতিক্রম ছিল একমাত্র বাবুল সুপ্রিয়৷ বেলা শেষে যখন বিজেপির প্রার্থী তালিকা বের হল ততক্ষনে হোলিকে সামনে রেখে এদিনের প্রচারে এগিয়ে থাকল ডান বাম সবাই৷ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিজেপি বাদে নিজ নিজ কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির ভাবনা এদিন এক জায়গাতেই মিলিত হয়েছে৷

এদিন শাসক দলের প্রার্থী থেকে শুরু করে নেতা কর্মী ও সমর্থকরা প্রচারে এগিয়ে থাকল৷ এদিন সকাল থেকেই উত্সবের আনন্দ গায়ে মেখে ভোটপ্রচারে প্রার্থীরা৷ বাদ যায়নি মন্ত্রীরাও৷ লেকটাউনে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে একেবারেই অন্য মেজাজে দেখা গেল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। তার সঙ্গে রঙ খেলায় মাতলেন উৎসবপ্রেমী মানুষ৷ সল্টলেকে সব্যসাচী দত্ত৷

এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রঙ খেলেই ভোটের প্রচার সারলেন যারা তারা হলেন, শ্রীরামপুরের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়,লক্ষ্মীরতন শুক্লা,বালুরঘাটের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ,হুগলির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রত্না দে নাগসহ অন্যান্য প্রার্থীদের অধিকাংশ৷ রঙের উত্সবে মাতোয়ারা উত্তর কলকাতার সিপিএম প্রার্থী কনীনিকা বোস, যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, বামনেতা সুজন চক্রবর্তী নিজের বাড়িতেই রঙের উত্সবে মাতোয়ারা ছিলেন৷

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা স্বীকার করে নিয়েছেন, ভোট প্রচারে কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। দলের নীচুতলার কর্মীদের মধ্যেও মতান্তর তৈরি হয়েছে৷ এখন দেখার বৃহস্পতিবার বেলা শেষে এই রাজ্যের প্রার্থী তালিকা ঘোষনায়,আগামী দিনে কতটা জোড়তোড় প্রচার করে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে পারে বিজেপি৷