বসিরহাট: ঘটনার প্রায় সাত দিন পর থমথমে বসিরহাটের আক্রান্ত সিপিএম কর্মীদের বাড়িতে গেলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান ও সিপিএমের পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবরর্তী৷ উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের পানিকোবড়া গ্রামে ঢুকতেই জোটের নেতাদের আটকে দেয় পুলিশ৷ এলাকায় ১৪৪ ধরা জারি থাকার জেরে তাঁদের ফিরে আসতে হয়৷

বৃহস্পতিবার সকালে বসিরহাটে আক্রান্তদের দেখতে যাওয়ার পর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন বিরোধীদল নেতা আবদুল মান্নান৷ এদিন তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এলাকায় অশান্তি থামাতে পুলিশ ব্যর্থ৷ পুলিশ ও সরকার চরম অসহযোগিতা করছে৷ গ্রামে আক্রান্তদের ফিরিয়ে আনতে গড়িমসি করছে পুলিশ’’ এদিন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিরোধীদল নেতার মন্তব্য, ‘‘আগামী সাত দিনের মধ্যে আক্রান্ত ঘরছাড়া কর্মীদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে৷ না হলে আমারই আক্রান্তদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবো৷ প্রয়োজনে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবো৷ আর, সেই কারণে যদি কোনও অশান্তি হয়, তার দ্বায় রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে৷’’

ঘটনার দুপরে রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে যান খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাদ্যমন্ত্রী বলেন ‘‘নির্বাচনের পরের দিন থেকে আমরা বলছি, যেন কংগ্রেস সিপিএম কর্মীদের ওপর কোনও আক্রমণ না চালানো হয়৷ এলাকায় শান্তি তৈরি হোক৷’’ এদিন মন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘কাল সিপিএমের বিজয় মিছিল থেকে আমাদের উপর হামলা হয়৷ লোহার রড, চেলাকাঠ ও ইট দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়৷ আসলে সিপিএমের বিজয় মিছিলের উদ্দেশ্য ছিল হামলা করা৷’’ তবে, এদিন ১৪৪ ধারার গেঁড়োয় মান্নান-সুজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলেও মন্ত্রী কি ভাবে গ্রামে ঢুকলো, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা৷ খাদ্যমন্ত্রীর উপস্থি ও জোটের নেতাদের গ্রামে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, ‘‘আগুনে ঘি ঢালতে গ্রামে ঢোকতে পারেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ কিন্তু, আক্রান্তদের ঘরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলেই ১৪৪ ধারা৷’’

Bashirhatচলতি মাসের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বসিরহাটের পানিগোড়রা গ্রাম৷ অভিযোগ, ওই দিন বিজয় মিছিল থেকে সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক এটিএম আবদুল্লা৷ বিধায়কের উপর হামলার প্রতিবাদে এলাকার কমপক্ষে ৫০টি সিপিএম কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়৷ সিপিএম-তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বসিরহাটের পানিকোবড়া গ্রাম৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়৷ বসানো হয় র‍্যাফ।

ওই দিন বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের সিপিএমের রফিকুল ইসলাম মণ্ডলের সমর্থনে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় সিপিএম নেতারা৷ অভিযোগ, সিপিএমের ওই মিছিল থেকে আক্রান্ত হতে হয় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক এটিএম আবদুল্লা৷ গুরুতর জখম হন বিধায়কের দেহরক্ষীও৷ ঘটনাস্থল থেকে বিধায়ককে উদ্ধার করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হতে হয় বসিরহাট থাকার আইসি তপন মিশ্র৷ বিধায়কের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে টাকি রোড অবরোধ করে তৃণমূল৷

এরপরই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসিরহাটের পানিকোবড়া গ্রামে৷ তৃণমূলের পক্ষে থেকে এলাকার সিপিএম কর্মীদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়৷ সিপিএম কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেষ্টা করতেই ফের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে৷ গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে পুলিশকে ঘিরে চলতে থাকে বিক্ষোভ৷ পরে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ এলাকায় অশান্তির অভিযোগে শাসক-বিরোধীদলের মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷