স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের আবহে মতুয়া সম্প্রদায়কে এককাট্টা করতে উদ্যোগ নিল তৃণমূল। কিন্তু সেটা ঠাকুরবাড়িকে বাদ রেখে৷

সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিয়ে একটি ‘হাই পাওয়ার’ কমিটি তৈরি করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এই কমিটিতে মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ির কোনও প্রতিনিধি ঠাঁই পাননি। এমনকী তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরকেও এই কমিটিতে রাখা হয়নি। দলীয় সূত্রে খবর, লোকসভা ভোট পরবর্তী দলীয় কাটাছেঁড়ায় উঠে এসেছে, মমতা বালা ঠাকুরকে সামনে রেখে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। ঠাকুরবাড়িকে বেশি প্রাধান্য দিতে গিয়েই সামগ্রিকভাবে মতুয়া গোষ্ঠীর কথা ভাবা হয়নি৷ সেইকারণেই ঠাকুরবাড়ির কোনও সদস্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি নয় তৃণমূল।

মূলত বনগাঁ লোকসভার জন্য আলাদা এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে বলেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে। কমিটির মাথায় রয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোবিন্দ দাস। তাঁর সঙ্গে বনগাঁ লোকসভার আওতায় থাকা তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়করাও রয়েছে কমিটিতে। বনগাঁ সংসদীয় ক্ষেত্রের অন্তর্গত গাইঘাটার বিধায়ক পুলিনবিহারী রায়, বনগাঁ দক্ষিণের সুরজিত বিশ্বাস, স্বরূপনগরের বিধায়ক তথা জেলা সভাধিপতি বীণা মণ্ডল, প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল শেঠ, রতন ঘোষ প্রমুখ এই কমিটিতে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বনগাঁ লোকসভার পাঁচটি বিধানসভা উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত। বাকি দুটি নদীয়া জেলায়। এনআরসি নিয়ে মতুয়া গোষ্ঠীকে বোঝানোর দায়িত্ব তাদের কাঁধেই দিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ জানা গিয়েছে, এই হাইপাওয়ার কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। তাদের অভাব-অভিযোগ শুনবেন।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করার আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) পাশ করানো হবে বলে ঘোষণা করেন। ওই বিল পাশ হলে কোনও হিন্দুর নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় থাকবে না। তাঁর সেই আশ্বাসবাণীতেও কিন্তু আতঙ্ক কাটেনি। বিশেষত, অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্তদের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাতেও কড়া প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মতুয়াদের মধ্যে এখনও প্রস্তাবিত ‘ক্যাব’ নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এনআরসি বিতর্ক উস্কে দিয়ে মতুয়াদের মধ্যে বিজেপি বিরোধিতা জাগিয়ে রাখতে সচেষ্ট তৃণমূল।