নয়াদিল্লি: প্রথমে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। আর ঠিক তিন মাস পরই আরও এক তরুণ, মেধাবী নেতাকে হারাতে চলেছে কংগ্রেস। আর এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের হাই কমান্ড তথা গান্ধী পরিবারের উপর ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেছে কংগ্রেসের একাংশ। দলীয় নেতাদের মধ্যেই তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ।

কয়েকদিন আগেই কপিল সিব্বলের ট্যুইট তার প্রমাণ। তিনি লিখেছিলেন, ‘নিজের দলের জন্য চিন্তা হচ্ছে। ঘোড়া পালিয়ে যাওয়ার পর কী আমরা জাগব?’

সচিন পাইলটের ক্ষেত্রে ঘটনাটা সিন্ধিয়ার মত ঘটেনি। সিন্ধিয়া যখন দল ছাড়েন, তখন গান্ধী পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, সিন্ধিয়ার জন্য দরজা সবসময় খোলা ছিল, কেন তিনি আগে এলেন না।

পাইলটের ঘটনাটা অন্যরকম। তিনি নিজে ফোন করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। রয়দীপ সুরযেওয়ালা জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীরও কথা হয়েছে। দলে থাকতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সচিন পাইলটের ঘনিষ্ঠতার কথাও উল্লেখ করেছেন সুরযেওয়ালা।

কিন্তু সূত্রের খবর, ক্ষোভ জমেছে দীর্ঘদিন ধরেই। কংগ্রেসের অনেকেই মনে করছেন, পাইলটের মুখ্যমন্ত্রী পদ পাওয়া উচিৎ। এতদিন ধরে গেহলট মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খাতিরে অনেক সুবিধে পেয়েছেন বলে অভিযোগ। গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করার ক্ষমতা কেবল তাঁরই ছিল।

দিন দশেক আগে যখন পাইলট দিল্লি এসেছিলেন নিজের অভিযোগের কথা জানাতে, তখন গান্ধী পরিবারের কেউ দেখা করেনি, বৈঠক হয়েছিল আহমেদ পটেলের মত নেতাদের সঙ্গে।

মঙ্গলবারই রাজস্থানের উপ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হল সচিন পাইলটকে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট তাঁকে উপ মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেন। দলের তরফে এই তথ্য জানিয়েছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা। শুধু উপ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেই নয়, রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি পদ থেকেও সরানো হয়েছে কংগ্রেসের এই যুব নেতাকে।

সরকারে সংকট নেমে আসতই তড়িঘড়ি তা সামাল দিতে দেরি করেননি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। সোমবারই তিনি দলের ১০৭ বিধায়কের মধ্যে ১০০ জনের সমর্থন আদায় করে নিয়েছিলেন। গেহলটের বাড়িতে ডাকা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়করা। প্রত্যেকেই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের নেতৃত্বে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবারও কংগ্রেস বিধান পরিষদীর দলের বৈঠকে যোগ দিতে বলা হলেও এড়িয়ে যান সচিন। শেষমেশ এদিন রাজস্থান কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অবিনাশ পান্ডে জানান, দল সচিনকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে চায়। সেই কারণেই মঙ্গলবারের বৈঠকে তাঁকে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে এদিনও বৈঠক এড়িয়েছেন সচিন।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I