ইসলামাবাদ: এর আগে এভাবে কখনও হাত পাততে হয়নি পাকিস্তানকে। ইমরান খান সরকারের আমলে মন্দা ও ঋণ নেওয়ায় রেকর্ড গড়ল ইসলামাবাদ। ইতিমধ্যেই ৩০০০ বিলিয়নের ঋণ চেপেছে পাক সরকারের ঘাড়ে। পরিসংখ্যান বলছে এর আগে কখনও এত ঋণ আর অনুদান নেয়নি পাকিস্তান।

ইমরান খান জমানার প্রথম বছরেই এই বিপুল পরিমাণে ঋণের বোঝা চেপেছে পাকিস্তানের ঘাড়ে। দিন কয়েক আগেই দেশ চালাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ইমরান খান, এই দাবি তুলে পথে নামে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সংগঠন। তাদের দাবি ছিল পদে বসে থাকার কোনও যোগ্যতাই তার নেই। যে এক বছর ক্ষমতায় রয়েছে ইমরান খানের তেহরিক ই ইনসাফ, সেই গোটা বছর ধরেই অর্থসংকটে ভুগছে পাকিস্তান। এই সরকার নির্বাচনে জালিয়াতি করে ক্ষমতা পেয়েছে।

এদিকে, এই এক বছরে পাকিস্তানি মুদ্রায় ৭৫০৯ বিলিয়নের মন্দা তৈরি করেছে ইমরান খান সরকার। স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানকে উদ্ধৃত করে পাক মিডিয়া জানাচ্ছে, ২০১৮ সালের অগাষ্ট থেকে ২০১৯ সালের অগাস্ট পর্যন্ত ২৮০৪ বিলিয়ন ধার করা হয়েছে বাইরের দেশগুলি থেকে। আবার ৪৭০৫ বিলিয়ন ধার করেছে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রগুলি থেকে।

স্টেট ব্যাংকের নথি বলছে, চলতি অর্থনৈতিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ঘাটতি রয়েছে ১.৪৩ শতাংশ। ইমরান খান ক্ষমতায় আসার আগে যেখানে ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪,৭৩২ বিলিয়ন, সেই ঋণ এখন দাঁড়িয়েছে ৩২,২৪০ বিলিয়নে। রাজস্ব আদায়ের কথা ছিল ১ ট্রিলিয়ন, সেখানে আদায় হয়েছে ৯৬০ বিলিয়ন। ফলে চরম বিপাকে ইমরান খান সরকার।

এদিকে, মার্কিন অনুদান বন্ধ কহওয়ার পর আরও সমস্যায় ইসলামাবাদ। ২০১০ সালে পাকিস্তান এনহ্যান্সড পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা পেপা চুক্তির ভিত্তিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক অনুদান লাভ করত পাকিস্তান। ইমরান খানের মার্কিন সফরে আসার সপ্তাহ তিনেক আগে পাক প্রধানমন্ত্রীকে এই অনুদান কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন। প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসবাদ রুখতে পাকিস্তানের তরফে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মার্কিন প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নেয়।

২০১৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে সামরিক অস্ত্র কেনায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল এই দেশ৷ কিন্তু ২০১৯ সালে সেই বাজেট বরাদ্দ কোথায় দাঁড়ায়, সেইদিকেই নজর ছিল বিশ্বের৷ পাক প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে ছিলেন, দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য৷ সেই লক্ষ্যে কাজ করতে চাইছে পাক সরকার।

ক্ষমতায় এসে ইমরান বলেছিলেন যদি প্রত্যেক প্রবাসী পাকিস্তানি দেশকে ১০০০ ডলার করে অনুদান দেন, তবে খুব সহজেই এই এই অর্থ সংকটের মোকাবিলা করতে পারবে তাঁর দেশ৷ সেই টাকা কোনওভাবেই নয়ছয় হবে না আশ্বস্তও করেন তিনি।