ক্যানবেরা: নারীর প্রতি হিংসা, অন্যায় আচরণ এবং তাঁদের উপর আক্রমণ যেন সমাজে ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধ্বনি উঠলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আজও অবহেলিত হয়ে থাকেন নারীরা। তাঁদের কথা বলা বা শোনার লোকের অভাব থাকায় সমাজে মহিলাদের নানাবিধ সমস্যা যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

তবে এবার মহিলাদেরকে অন্যায় আচরণ, যৌন হয়রানি, পুরুষের কটু আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে নয়া প্রযুক্তির উদ্ভাবন করলেন রিচি নায়েক।

কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপিকা রিচি নায়েক আদতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা। পেশায় অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড কলেজের প্রফেসর তিনি।

সম্প্রতি ‘স্প্রিংগার জার্নালে’ তাঁর তৈরি ‘আলগরিদম’ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণা পত্রে রিচি নায়েক জানিয়েছেন, তাঁর উদ্ভাবন করা সম্পূর্ণ নতুন একটি অ্যালগরিদম যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মে মহিলাদের উপর করা মিসোগিনিস্টিক পোস্ট গুলিকে চিহ্নিত এবং সেগুলিকে প্রতিহত করবে।

এই বিষয়ে শনিবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী যেকোনও ব্যক্তিই আপত্তিকর মন্তব্য, ছবি বা ভিডিও আপলোড করার জন্য নিজেই দায়বদ্ধ। আর তার ওই আপত্তিকর কোনও মন্তব্য, ছবি বা অন্যকিছু মহিলাদের জন্য অস্বস্তিকর হলে তাঁর তৈরি এই মেশিন লার্নিং সলিউশন অনলাইনে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং আপত্তিকর প্রতিবেদনে রিপোর্ট করতে পারবে।

আইআইটি রুরকি থেকে স্নাতকোত্তর পাশ রিচা নায়ক আরও দেখিয়েছেন কীভাবে মেশিন লার্নিংয়ের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রটি উন্নত সিস্টেমগুলির ডেটা ব্যবহার করতে আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। কেননা বেশিরভাগ গবেষণায় দেখা গিয়েছে ঘরে-বাইরের পাশাপাশি অনলাইনেও মহিলারা নানারকম নিযার্তনের শিকার হচ্ছেন। সেটা যৌন হয়রানি হোক কিংবা মানসিক চাপ,সবকিছুতেই এই সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম ব্যবহার করে খুব সহজেই যেকোনও মেয়েকে হেনস্তা বা মিসোগিনি করা যায়। তবে এবার থেকে রিচা নায়েকের এই আলগরিদম ইনপুট এবং আউটপুট ব্যবহার করে অনলাইনেই অতি সহজেই মিসোগিনির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে।

নায়েক আরও জানিয়েছেন যে, তিনি যদি এই জাতীয় সামগ্রীর শনাক্তকরণ এবং মুছে ফেলা সহজ করতে পারেন তবে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার মহিলাদের জন্য আরও নিরাপদ হতে পারে। নায়কের এই গবেষণায় সহযোগী গবেষক ছিলেন মহম্মদ আবুল বাশার। তিনিও এমন একটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন যা সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল এবং আপত্তিজনক শব্দগুলিকে বেছে নিতে পারে এবং মুছে দিতে সক্ষম।

এই বিষয়ে রিচা নায়েক বলেন, ” আমরা এই মডেলটিকে উইকিপিডিয়ার মতো ডেটাসেটের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্ট্যান্ডার্ড ভাষা শিখিয়েছি। এরপরে, আমরা ব্যবহারকারীদের ডেটার মাধ্যমে কিছুটা আপত্তিজনক ভাষা শেখার প্রশিক্ষণ দিয়েছি। শেষ অবধি, মডেলটিকে টুইটের একটি বড় ডেটাবেসের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ভাষাগত দক্ষতার বিকাশ হওয়ার পরে, আমরা এটিকে মিথ্যা ও নন-মিজোগিনিস্টিক টুইটগুলির মধ্যে পার্থক্য করতে শিখিয়েছি।”

সবমিলিয়ে বলা চলে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কন্যার কম্পিউটার প্রযুক্তির এই নয়া আবিস্কার সাড়া ফেলে দিয়েছে বিজ্ঞানী মহলে। যেহেতু কোনও মহিলা অনলাইনে মিসোগিনিস্টের শিকার হলে তার কুপ্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের উপর পড়ে, সেহেতু রিচা নায়েকের এই নয়া উদ্ভাবন অবশ্যই মহিলাদের উপকৃত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।