সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা: এবারের মতো মহানগর থেকে শীত বিদায় নিতে চলেছে। এমনটাই জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ধীরে ধীরে শহরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। এখনই ব্যাপক তাপমাত্রা না বাড়লেও কিছুদিন পর থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়বে পারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

ফেব্রুয়ারি মানেই শীতের শেষবেলা। ঠিক সেই মতোই দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ডিগ্রি কম। দিন চারেক আগেই এই সর্বনিম্ন তাপমাত্রাই ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু তখনও জানুয়ারি মাস চলছিল। নতুন মাস পড়তেই এক ডিগ্রি করে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে।

পয়লা ফেব্রুয়ারি শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রির সামান্য উপরে। ২ ফেব্রুয়ারি আরও এক ডিগ্রি বেড়েছে কলকাতার তাপমাত্রা। আবহবিদরা জানাচ্ছেন কিছু মিরাকেল না হলে শহরের তাপমাত্রা এবার বাড়তে শুরু করবে। আর সেটা স্বাভাবিক নিয়মেই হবে। কারণ বসন্তের দিকে এগোলে আবহাওয়া এমন হওয়াই স্বাভাবিক। তবে এখনই ব্যাপম ভাবে বেড়ে যাবে না তাপমাত্রা। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিশেষ বাড়বে না। বাড়লেও সেটা .৩ ডিগ্রি বা .৪ ডিগ্রি বাড়বে যেটা বিশেষভাবে অনুভূত হবে না। রাতের তাপমাত্রাও বিশেষ হেরফের হবে না। তবে দিন চারেক পর তাপমাত্রার পরিবর্তন স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

শনিবার সকালেও শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বিকালে সেটা ২৯ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। তবে রাজ্যের অন্যন্য অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেকটাই নীচে রয়েছে। আসানসোলের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়া , ব্যরাকপুর, বর্ধমানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ১২.২, ১০.৫, ১৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাঁথি এবং ক্যানিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৪, ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।২ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণনগর, পানাগড় , পুরুলিয়া, শ্রীনিকেতনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.৬, ১০.৪, ১০.৪ এবং ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও শীতের কড়া অনুভুতি জারি রয়েছে। এদিন কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি এবং কালিম্পংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৬, ৪.০, ৯.১, ৭.৬, ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হাওয়া অফিস এও জানাচ্ছে হিমালয়ের উপরে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সৃষ্টি হবে তবে তা পশ্চিমবঙ্গের উপর প্রভাব ফেলবে না। এর প্রভাব পড়বে ছত্তিশগড়, ওডিশা , মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের উপর। কলকাতার উপরেও স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়বে না।