ফাইল ছবি

শেখর দুবে, কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের জনাদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে মোদীতেই আস্থা রাখছেন ভারতের জনগণ৷ পাঁচবছর সরকার চালানোর পরও ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনের থেকে বেশি সংখ্যায় সিট জিতে আবার একবার ভারতের পার্লাম্যান্টে ফিরতে চলেছে মোদী৷ এই নির্বাচনে বিজেপি চমকপ্রদ ফল করেছে৷ তবে সবচেয়ে চমক বোধহয় ভোগালের সিটের বিজেপি প্রার্থীই দেখিয়েছেন৷ এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রাজনীতিতে একেবারেই আনকোরা সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর৷ সাধ্বীর জয়ে হিন্দুত্বের নবজাগরণ দেখছে বাংলার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷

ভোপাল কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন লড়ে প্রায় ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮২২টি ভোটে জয়ী হয়েছেন সাধ্বী৷ মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিযুক্ত এই হিন্দুত্ববাদী নেত্রীকে ভোটের টিকিট দেওয়ায় পর সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদী-অমিত শাহরা৷ ২০০৮-এ মালেগাঁও বিস্ফোরণের অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছিল সাধ্বীকে৷ ২৩ দিন হেফাজতে ছিলেন তিনি।

আর ওই ২৩ দিন তাঁকে অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে বর্ণনা করেছেন সাধ্বী প্রাচী৷ একটি কর্মীসভায় তিনি বলেন, প্রথম দিনই কিছু জিজ্ঞেস না করেই পেটাতে শুরু করে পুলিশ৷ এত জোর মারা হত যে সেই মার খেয়ে নার্ভাস সিস্টেম দুর্বল হয়ে যেত। দিন-রাত এভাবেই মারা হত তাঁকে। সঙ্গে অকথ্য গালিগালাজ করা হত বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ উল্টো করে ঝুলিয়ে, বিবস্ত্র করা হত বলেও জানান সাধ্বী প্রজ্ঞা৷

ভোটে দাঁড়ানোর পর বিভিন্ন মহাত্মা গান্ধী, নাথুরাম গডসে, ২৬/১১ শহীদ হেমন্ত কারকারেদের নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে গেছেন সাধ্বী৷ বিরোধীরাও সুযোগ নষ্ট না করে সাধ্বীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে৷ বিষয়টা এমন এক জায়গাতে পৌঁছয় যে এক পর্যায় গিয়ে খোদ নরেন্দ্র মোদীও সাধ্বীর উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ এসবের পরও ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষ কিন্তু ভরসা রেখেছেন সেই সাধ্বীর উপরই৷ ৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৮২টি ভোট পেয়েছেন সাধ্বী৷ যা ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের মোট ভোটের ৬১.৫ শতাংশ৷

একই রকমভাবে উন্নাও লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৪ লক্ষ ৯৫৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপী প্রার্থী শাক্ষী মহারাজ৷ তার প্রাপ্ত ভোট ৭লক্ষ ৩ হাজার ৫০৭৷ সাধ্বী এবং শাক্ষীর জয়ে ভারতে হিন্দুত্বের নবজাগরণ দেখছে বাংলার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ৷ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির পূর্বাঞ্চলের নেতা সচিন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, ‘‘ এই ভোট বুঝিয়ে দিয়েছে হিন্দু সাধ্বী, সাধু, সন্তদের অপমান ও অত্যাচার করলে তার ফল কী হতে পারে৷ এই ভোটে দুটো প্রধান ইস্যু ছিল হিন্দুত্ব এবং জাতীয়তাবাদ৷ দুটোরই জয় হয়েছে৷ আশা করব ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি এবার বুঝবে হিন্দুত্বকে অস্বীকার করে ভারতে জয় সম্ভব নয়৷’’ নিজের জয় নিয়েই সাধ্বীও বলেছেন এই জয় আসলে অর্ধমকে হারিয়ে ধর্মের জয়৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।