সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সকাল হোক কিংবা দুপুর। বিকেল কিংবা রাত। নাগাড়ে দিয়ে চলেছে হাওয়া। সকালে হাওয়ার গতিবেগ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি। এমন ‘পাগলা’ হাওয়া এখন বর্তমান কলকাতা ও তাঁর সংলগ্ন জেলাগুলির সর্বত্র। হাওয়ার এমন বেগ মনে হচ্ছে এই বুঝি আবার তেড়ে আসছে বৃষ্টি। কিংবা কোনও ঝড় কি আবার আসছে তেড়ে? কিন্তু আদতে তেমন কিছু হয়নি। তাহলে হচ্ছেটা কী?

হাওয়া অফিস জানাচ্ছে , দক্ষিণ পশ্চিমী বাতাসের একটু বেশি গতিতে বইছে। তেমনই হাওয়া অফিস এও জানাচ্ছে যে উত্তর পূর্ব ভারতের উপর টোপোগ্রাফির প্রভাব পড়ছে। তাই এই হাওয়া দিচ্ছে। কলকাতায় এদিন সকালের হাওয়ার গতিবেগ ১৪.৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। কিন্তু এই বাতাসের পুরোটাই দক্ষিণ – পশ্চিমী বাতাস। এবং এর গতি বেশ তীব্র।

দমদমে হাওয়ার গতিবেগ আরও বেশি, গড়ে ১৮.৫ থেকে ১৯.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এখানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমী হাওয়ার গতিবেগ তীব্র। সল্টলেকেও সকালের দিকে হাওয়ার গতিবেগ ছিল ১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কিছু বেশি। এখন হাওয়ার গতি কিছু কমেছে। দীঘাতেও হাওয়ার গতি ১৪.৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। হলদিয়ায় ১১.১ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। পানাগড়ে হাওয়ার গতি ১৮.৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

এই হাওয়ার প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলার তাপমাত্রার উপরেই পড়েছে। ফলে প্রায় সমস্ত জেলাতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ২৬ -০২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে কিন্তু তুলনামূলক কম। গড়ে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রভাব স্পষ্ট কলকাতার আবহাওয়াতেও।

মঙ্গলবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন ২৮.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের দুই ডিগ্রি বেশি। আবার সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম। আর এভাবেই ভারসাম্য বজায় থাকছে পারদের। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৮৭ সর্বনিম্ন ৭২ শতাংশ। ছিটেফোঁটা বৃষ্টিও হয়েছে শহরে। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। এবার আজ থেকে কতটা গরমে ভারসাম্য আসতে পারে সেটাই দেখার। দমদম ও সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রির আশেপাশেই ঘোরাফেরা করেছে।

শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি বেশি। শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে এক ডিগ্রি কম। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমান ছিল সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ, সর্বনিম্ন ৬৪ শতাংশ। বৃষ্টি হয়নি। শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। আদতে তা হয়নি। বলাই হয়েছিল তাপমাত্রা থাকবে সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রিতে পৌঁছাবে। সেটাই হয়েছিল। তারপর থেকে ফের নীচের দিকেই থেকে শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প