ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা: ভবানীপুরের সাথে প্রাথমিকভাবে খেলার কথা ছিল ৪ সেপ্টেম্বর। কিন্তু আপত্তি জানিয়ে পরদিন ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে একইদিনে খেলতে চেয়ে দরবার করেছিল মোহনবাগান। সেইমতো বৃহস্পতিবার কলকাতা লিগে নিজেদের মাঠে ইস্টবেঙ্গল যখন মুখোমুখি হয়েছিল সাদার্ন সমিতির তখন কল্যাণীতে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান। ডার্বি পরবর্তী কলকাতা লিগের ম্যাচে জয়ে ফিরল দুই প্রধানই। নিজেদের মাঠে সাদার্নকে ২-১ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে কল্যাণীতে দুরন্ত ফুটবলে ভবানীপুরকে ২-০ গোলে পরাস্ত করল মোহনবাগান।

প্রাক্তনী মেহতাব হোসেনের দলের বিরুদ্ধে এদিন আটটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া। প্রতিপক্ষ দলে ছিল আবার আল আমনার মতো প্রাক্তনী। চেনা মাঠে এদিন শুরু থেকেই ফুল ফোটানো শুরু করেন আমনা। তাঁর নেতৃত্বেই মাঝমাঠের কব্জা নিতে চেষ্টা করে মেহতাবের সাদার্ন। স্বাভাবিকভাবেই ঘরের মাঠে ছন্দ ফিরে পেতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায় কোলাডো, বিদ্যাসাগরদের। ম্যাচের ২৩ মিনিটে প্রথম ইতিবাচক সুযোগ পায় লাল-হলুদ। লালরিনডিকার কর্নার থেকে অভিষেক ম্যাচে ডিফেন্ডার বোরহা গোমেজের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের নেতৃত্বে এদিন দারুণ খেলল লাল-হলুদ রক্ষণ।

তবে প্রথম গোলের জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি ইস্টবেঙ্গলকে। ৩৩ মিনিটে ডিকার কর্নার থেকেই ডেডলক ভাঙেন বিদ্যাসাগর। তবে এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেন হাইমে কোলাডো। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হেডে বিদ্যাসাগরের জন্য সাজিয়ে দেন স্প্যানিয়ার্ড। গোল করতে কোনও ভুল করেননি মণিপুরী স্ট্রাইকার। দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য বজায় রেখেই ম্যাচে ইন্সিওরেন্স গোল তুলে নেয় লাল-হলুদ। এবার সেই ডিকার ঠিকানা লেখা কর্নার থেকে হেডে বল তিনকাঠিতে রাখেন হাইমে। ৭২ মিনিটে কোলাডোর পরিবর্তে নবাগত বিদেশি জুয়ান গঞ্জালেস মাঠে নামলেও বাঁ-পায়ের একটি শট ছাড়া প্রথম ম্যাচে তাঁকে নিয়ে বলার বিশেষ কিছু নেই। ৮১ মিনিটে পরিবর্ত অর্জুন টুডু ব্যবধান কমালেও ম্যাচে সমতায় ফেরা হয়ে ওঠেনি সাদার্নের। ফলে ঘরের মাঠে পুরো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।

অন্যদিকে কল্যাণীতে দুই অর্ধে দু’টি গোল করে মোহনবাগানের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করলেন রোমারিও জেসুরাজ ও নংদম্বা নাওরেম। তবে জোড়া গোলের চেয়েও উল্লেখযোগ্য বৃহস্পতিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে বাগানের পাসিং ও উইং নির্ভর ফুটবল। বৃহস্পতিবার লিগে তাঁর দ্বিতীয় গোলের পাশাপাশি জেসুরাজকে দিয়ে গোল করালেনও নাওরেম।

২৯ মিনিটে নাওরেমের ক্রস থেকে ডেডলক ভাঙেন জেসুরাজ। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্র্যান গঞ্জালেসকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ভবানীপুরের অনুপ দাস। এর ঠিক পরের মিনিটেই ম্যাচে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় বাগান। ব্রিটোর থেকে বল পেয়ে তা নাওরেমের উদ্দেশ্যে ক্রস করেন সালভা চামোরো। সেখান থেকেই দলের হয়ে ব্যবধান বাড়ান নাওরেম। প্রথম একাদশে না রাখলেও শেষ ২০ মিনিট জোসেবা বেইতিয়াকে মাঠে নামান কিবু। যদিও তাতে স্কোরলাইনে বদল আসেনি। তবে আরও বেশি গোলে এদিন জিততেই পারত সবুজ-মেরুন। এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে থাকল তারা।