চেন্নাই: ঘাম ব্যবহারে অনুমতি দিলেও সম্প্রতি বলে লালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তাব পেশ করেছে আইসিসি’র ক্রিকেট কমিটি। করোনা পরবর্তীতে ক্রিকেট চালুর আগে এই ব্যাপারে পাকাপাকিভাবে সিলমোহর পড়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতে বলে লালা লাগানো আমাদের বোলারদের অভ্যেস তাই নতুন অভ্যেসে মানিয়ে নিতে অনুশীলনের প্রয়োজন। করোনা পরবর্তী সময় ক্রিকেট চালু না হলে পুরনো অভ্যেস ত্যাগ করা সম্ভব নয় বলে জানালেন দক্ষিণী স্পিনার৷

নয়া আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে সম্প্রতি এক আলোচনায় বলে লালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেন অশ্বিন। সেখানে এই ফিঙ্গার স্পিনার জানান, ‘বলে লালা ব্যবহার করার প্রবণতা আমাদের সহজাত। জানি না ফের কবে মাঠে নামতে পারব, তবে এটা নিশ্চিত নতুন অভ্যেসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে গেলে আমাদের এটা চেষ্টা করতে হবে নয়া এই অভ্যেস আয়ত্ত করতেই হবে।’

এছাড়া লাইভ সেশনে নিজের ক্যারম বলে বিবর্তন প্রসঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি করোনা পরবর্তী সময় বাইশ গজে সেলিব্রেশন নিয়েও কথা বলেন অশ্বিন। তাঁর কথায় করোনা পরবর্তী সময় মাঠে সেলিব্রেশন অনেকটা ৭০-৮০’র দশকের মতো হয়ে যাবে। অশ্বিন বলেন, ‘তোমরা যদি ১৯৭০-৮০’র সময়ের খেলা দেখ তাহলে দেখবে প্রত্যেকে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে কেবল হাততালি দিয়ে সেলিব্রেশন করত। হাই ফাইভ কিংবা রিস্ট পাম্পের বালাই ছিল না। ক্রিকেটে এটা অনেক পরে এসেছে।’ একইসঙ্গে দক্ষিণী স্পিনারের কথায় কোভিড১৯ মানবজাতির প্রতি প্রকৃতির একটা প্রচ্ছন্ন হুমকি।

উল্লেখ্য, অনিল কুম্বলে নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট কমিটি সম্প্রতি জানিয়েছে বল পালিশে ঘাম ব্যবহারে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। তাই লালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ঘাম ব্যবহারে সম্মতি প্রদান করেছে ক্রিকেট কমিটি। একইসঙ্গে বল পালিশে কোনও কৃত্রিম পদার্থের ব্যবহারকে বল বিকৃতিরই সামিল বলে মনে করেছে কুম্বলে নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট কমিটি। যা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া করোনা পরবর্তী সময় ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে আম্পায়ার কিংবা ম্যাচ অফিসিয়াল নিয়োগের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে ক্রিকেট কমিটি।

কুম্বলে নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট কমিটির সুপারিশগুলি আগামী মাসের শুরুতে পেশ করা হবে আইসিসি’র চিফ এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায়। সেখানেই গৃহীত হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প