ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা কি বহাল থাকবে? সংবিধানের ৩৫এ ধারার কি আর কোন প্রয়োজনীয়তা আছে? আজ, সোমবার এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ৷ সংবিধানের ৩৫এ ধারা বলবৎ থাকবে কিনা তাও জানা যাবে আজ৷

কি বলা আছে সংবিধানের ৩৫এ ধারাতে?

এই ধারা বলে জম্মু কাশ্মীরের বিধানসভাকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে৷ এই ধারার মাধ্যমে রাজ্য ঠিক করে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা কারা৷ স্থায়ী নাগরিক হিসাবে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়৷ তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাজ্যে দশ বছর বসবাস করতে হবে৷ স্থায়ী নাগরিক হওয়ার পর তিনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কেনার অধিকারী হন৷ ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের কাশ্মীরে জমি কিনে বসবাসের অধিকার নেই৷

কবে ৩৫এ ধারা সংবিধানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়?
জম্মু কাশ্মীরের বাসিন্দাদের অধিকার রক্ষায় ১৯৫৪ সালের ১৪ই মে এই ধারাকে সংবিধানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়৷ রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই ধারা বলবৎ হয়৷

এই ধারা নিয়ে আইনি লড়াই

এই ধারা বাতিলের দাবিতে একাধিক পিটিশন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে৷ দিল্লির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পিটিশনে জানায়, এই ধারা দেশের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে৷ জন্ম সূত্রে কাশ্মীরি এক মহিলা চারু ওয়ালি খান পিটিশন দাখিল করে বলেন, এই ধারা কাশ্মীরি মহিলাদের পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে৷
এই পিটিশনগুলির শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি জে এস খেহর তিন সদস্যের বেঞ্চ গঠন করে৷ আজ, সোমবার সেই বেঞ্চে পিটিশনগুলির শুনানি হবে৷

কেন বিতর্ক?

এই ধারা বাতিল হলে ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা উপত্যকায় জমি কেনার অধিকারী হবেন৷ তাঁরা ভোট দেওয়ার অধিকারী হবেন৷ ফলে মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরে জনসংখ্যায় পরিবর্তন আসবে৷
তবে এই ধারা বাতিল করা হলে জম্মুতে তিরঙ্গা ধরার লোক পাওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি৷ এই ধারা বাতিলের বিরোধীতা করেন রাজ্যের অন্যান্য বিরোধী দল ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা৷ তবে বিজেপি প্রথম থেকেই এই ধারা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার ছিল৷