তিরুঅনন্তপুরম: আধুনিক ইসলামের প্রতিনিধি হিসেবে বহু আগে থেকেই বিতর্কিত তিনি৷ গত সপ্তাহে শুক্রবার জুম্মাবারের নামাজ পাঠে নেতৃত্ব দিয়ে মৃত্যুর হুমকিও পেতে হয়েছে তাঁকে৷ তিনি হলেন কোরান সুন্নত সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জামিদা৷ তবে মৃত্যুর হুমকি যে তাঁকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি তা সর্বসমক্ষে জানিয়ে দিলেন তিনি৷

তাঁর বক্তব্য, কোনও প্রকার হুমকিতেই তিনি আতঙ্কিত হবেন না এবং আগের মতই জুম্মা মণ্ডলীকে নেতৃত্ব দিয়ে যাবেন৷ তিনি জানিয়েছেন, ফেসবুক, ট্যুইটার, হোয়াটস অ্যাপের মত সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷

তিনি বলেন, ‘আমায় বাঁচতে দেওয়া উচিত নয়, ইসলামকে ধ্বংস করার অপরাধে আমাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হবে৷ এই ধরণের বহু মন্তব্য ও হুমকি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করা হয়েছে৷’ কিন্তু যাবতীয় হুমকিকে কার্যত উপেক্ষা করেন আধুনিক ইসলামের এই প্রতিনিধি৷ যিনি নামাজ পাঠে নেতৃত্ব দিয়ে লিঙ্গভেদের রেখা মুছে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘কোরান পুরুষ ও মহিলার মধ্যে কোন ভেদাভেদ করে না এবং মহিলাদের ইমাম হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম কোন বাঁধা দেয় না৷’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার মালাপ্পুরমের ওয়ান্দুর গ্রামে কোরান সুন্নত সোসাইটি আয়োজিত জুম্মাবারের নামাজ পাঠে নেতৃত্ব দান করেন জামিদা৷ তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে বয়ে যায় বিতর্কের ঝড়৷ নিন্দায় মুখর হন বহু কট্টরপন্থী মুসলীম৷ প্রতিবাদে নির্ভীক জামিদা বলেন, ‘যারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমায় আক্রমণ করছে তারা কাপুরুষ৷’ বিভিন্ন ধরণের হুমকির মুখেও শিরনত করেননি জামিদা৷ বরং শুধু মালাপ্পুরম নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নামাজ পড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি৷ আগেও তিন তালাক ও জোর করে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন জামিদা৷ তখনও পরতে হয়েছিল বিতর্ক ও হুমকির মুখে৷