ওয়াশিংটন: দু’দিন আগেই হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে বদলা নেওয়ার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওষুধ না গেলে তিনি নাকি ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা ভাববেন। রাতারাতি আমেরিকাকে ওষুধ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। আর তাতেই খুশি ট্রাম্প। সুর ঘুরে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেছেন তিনি। এবার একেবারে প্রকাশ্যে ট্যুইট বার্তায় কৃতজ্ঞতা স্বীকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের। বুধবার রাতে ট্যুইটারে তিনি ভারত তথা ভারতবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। লিখেছেন, ‘কঠিন সময়ে বন্ধুদের সহযোগিতা বেশি করে দরকার হয়। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভারত এবং ভারতবাসীকে ধন্যবাদ। কখনও ভুলব না। ধন্যবাদ নরেন্দ্র মোদী। আপনার নেতৃত্ব শুধুই ভারতের নয়, গোটা মানবজাতির।’

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন কসিকলোর নামে ম্যালেরিয়ার ওই ওষুধের ২৯ মিলিয়ন ডোজ ইতিমধ্যেই রওনা হয়েছে আমেরিকার উদ্দেশ্যে। গুজরাত থেকে জাহাজে করে পাঠানো হচ্ছে সেই ওষুধ।

এরপরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “আমি প্রচুর পরিমাণ ওষুধ আনাচ্ছি। ২৯ মিলিয়ন এর থেকেও বেশি। বেশিরভাগটাই ইতিমধ্যে ভারত থেকে রওনা হয়েছে। আমি নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছিলাম, যদি তিনি ওষুধ পাঠান। মোদী ভীষণ ভালো মানুষ।”

ঠিক আগের দিনই হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে একেবারে অন্য সুরে কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন যে তিনি আশা করছেন মোদী ওষুধ পাঠাবে, যদি না পাঠান সেক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। কার্যত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ইতি টানার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে হাইড্রোকুইনন নামে ম্যালেরিয়ার ওষুধ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ কার্যকর হচ্ছে। এরপরই গত ২৫ মার্চ নিঃশব্দে ওই ওষুধের রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে হয় ভারতকে। শুধু আমেরিকা নয় ব্রাজিল সহ একাধিক দেশ এই মুহূর্তে ওই ওষুধের জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী।