পাটনা: মুখে বন্ধুত্বের সুর৷ কিন্তু বাস্তবে গোঁসা ছুঁয়েছে গগণচুম্বী৷ এনডিএ শরিক জেডিইউ নেতাদের কথাতেই তা স্পষ্ট৷ তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না মেলায় নীতীশ কুমার তার বদলা নিলেন বিহারের মন্ত্রিসভার বহর বাড়িয়ে৷ অন্যদিকে দলের প্রথম সারির নেতা কে সি ত্যাগী ঘোষণা করলেন, ‘ভবিষ্যতে এনডিএ পরিচালিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অংশ হবে না জেডুইউ৷’

দ্বিতীয় মোদী মন্ত্রিসভায় শরিক জেডিইউকে একটি পূর্ণমন্ত্রী পদ দেওয়ার কথা জানায় বিজেপি৷ কিন্তু, নীতীশ কুমার অনড় ছিলেন দু’টি পূর্ণমন্ত্রী পদের দাবিতে৷ লক্ষ্যপূরণ না হওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অংশ হয়নি বিহারের শাসক দলের কোনও সাংসদ৷ যা নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই বিতর্ক মাথাচাড় দেয়৷

আরও পড়ুন: দেশে ঔপনিবেশিক শাসন চালাচ্ছে বিজেপি : রাহুল গান্ধী

প্রকাশ্যে অবশ্য এনিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি নীতীশ৷ উলটে বলেছেন মন্ত্রিসভার এমশ হতেই হবে তেমন কোনও অভিপ্রায় তাদের নেই৷ সেই সঙ্গেই সংযোজন করে জানিয়ে দেন, প্রতীকী যোগদানের থেকে ভালো মন্ত্রিত্বের বাইরে থাকা৷ সরকারকে কাজে সহায়তা করা৷ তাঁর এই কথাই বিশেষ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করা হচ্ছিল৷

ইঁটের জবাব পাথর দিয়ে কী দেবেন জেডিইউ প্রধান? শপথ গ্রহণের পর থেকেই সেই জল্পনা মাথাচাড়া দেয়৷ অপমানিত নীতীশ কুমার যে ছেড়ে দেওয়ার যে পাত্র নন তা রবিবারই স্পষ্ট হয়ে গেল৷ এদিন বিহার সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঘোষণা করে জেডিইউ-বিজেপি জোট সরকার৷ মন্ত্রিসভার আটটি পদ নিজেদের দখলে রেখেছেন নীতীশ কুমার৷ গেরুয়া দলের কোনও বিধায়ককে সেখানে স্থান দেওয়া হয়নি৷ জেডিইউয়ের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় ওই আটটি মন্ত্রী পদই তাদের পাওনা৷

আরও পড়ুন: ফের ভারতের বাজারে জাল নোট ছড়াচ্ছে ডি-কোম্পানি

অন্যদিকে, জেডিইউয়ের মুখপাত্র ও সম্পাদক কেসি ত্যাগী বলেন, ‘‘দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে৷ আমাদের দল ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের অংশ হবে না৷ এটা জেডিইউয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত৷’’

এবার লোকসভা নির্বাচনে জেডিইউ পেয়েছে ১৬ আসন৷ বিজেপি-র দখলে ১৭ আসন। ভারতজুড়েও গেরুয়া ঝড়৷ বিজেপি একাই পেয়েছে ৩০২ আসন৷ এই অবস্থায় জোট ভেঙে বেড়িয়ে আসা নয়৷ উলটে কাজেই তার জবাব দিতে হবে কৌশলে৷ বিহারীবাবুর নজরে যে বিহার রাজনীতির ভবিষ্যত৷ এরপর কী জেডিইউ বিজেপি সম্পর্কের নতুন সমীকরণের দেখা মিলবে? অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল৷