স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বঙ্গীয় রাজনীতির আনাচে কানাচে রথের অবস্থান৷ যা নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা মধ্য গগনে৷ লক্ষ্মীবারেই ইসকনের রতের রশিতে টান দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সঙ্গে ছিলেন সদ্য বিবাহিতা সাংসদ নুসরত ও তাঁর স্বামী৷ যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷

রাজ্য বিজেপি সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এদিন মুকুল রায় বলেন, ‘‘ধর্ম নিয়ে বলতে চাইছি না৷ কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী নুসরতকে নিয়ে গিয়ে রথের রশিতে টান দিয়েছেন৷ ভালো কথা৷’’ রাজ্য বিজেপির পোড় খাওয়া এই নেতার কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর এই কার্যকলাপের জন্য তাঁকে বিভিন্ন ব্যক্তির নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ মুকুল রায় বলেন, ‘‘আমাকে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত প্রতিষ্ঠিত এক মানুষ প্রশ্ন করেছে যে তাঁর ধর্মীয় অবস্থান না পালটে হজে যেতে চান৷ মুখ্যমন্ত্রী কী ব্যবস্থা করে দেবেন?’’

আরও পড়ুন: গীতা পাঠের ‘অপরাধ’, মুসলিম ব্যক্তিকে গণপিটুনি আলিগড়ে

নুসরত রথের রশি টেনে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন৷ মুকুল রায়ের কথার ইঙ্গিত সেদিকেই বলে মনে করা হচ্ছে৷ এই ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করেই আপাতত মমতা বিরোধী কর্মসূচি জোরদার করার লক্ষ্যে গেরুয়া শিবির৷

লোকসভায় শপথের পর থেকেই বিতর্কে বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ৷ সদ্য বিয়ে করেছেন নুসরত৷ সংসদে শপথের সময় মাথায় সিদুঁর, হাতে চূড়া পরে আসেন তিনি৷ শপথের সময় নিজের নাম নুসরত জুহি জৈন জাহান বলেন৷ তাতেই কট্টরপন্থী মুসলিম ধর্মীয় নেতারা গেল গেল রব তুলেছেন৷ একজন মুসলমান হয়ে কেন মাথায় সিদুঁর দেবেন তিনি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ তাদের মতে একজন মুসলমান মহিলার নিজ সম্প্রদায়ের পুরুষকেই বিয়ে করা উচিত৷

সাংসদের বিরুদ্ধে এই ফতোয়ায় সোচ্চার হন বিজেপি মন্ত্রী, সাংসদরা, নেতারা৷ প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় থেকে লকেট চট্টোপাধ্যায়, স্বাধী প্রাচী থেকে সাওনায়াজ হোসেন প্রত্যেকেই এই ফতোয়ার বিরোধীতা করেন৷ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও বিরোধীতা করা হয়৷ কিন্তু নীরব থাকেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যা নিয়ে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে মুখ খোলার আহ্বান করেন৷

আরও পড়ুন: ক্ষুব্ধ অগ্নিমিত্রার খোলা চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে

বৃহস্পতিবারই এনিয়ে নুসরত বলেন, ‘‘ভিত্তিহীন বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আমার ধর্ম জানি। জন্ম থেকে আমি মুসলিম। এখনও তাই। এটা বিশ্বাসের ব্যাপার। হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হবে। মাথা খাটালে চলবে না৷’’

রথ রাজনীতি সক্রিয় বাংলায়৷ ভোটের আগে বিজেপির ‘রথ’ আটকাতে মরিয়া ছিল মমতা সরকার৷ পরে আদালতের নির্দেশে সেই রথের চাকা আর এগোতে পারেনি৷ পালটা তৃণমূলকে বিঁধতে এবার আসরে বিজেপি৷ তাদের পুঁজি নুসরত জাহান ও ধর্মীয় ভাবাবেগ৷