নয়াদিল্লি : কেন্দ্রের কাছে কড়া প্রশ্ন সেরাম ইনস্টিটিউটের। শনিবার ট্যুইটারে স্বাস্থ্যমন্ত্রককে সরাসরি প্রশ্ন করেন সেরাম কর্তা আদর পুনাওয়ালা। তাঁর প্রশ্ন প্রত্যেক ভারতীয়কে করোনা ভ্যাকসিন দিতে গেলে খরচ হবে ৮০ হাজার কোটি টাকা। সেই অর্থ কি কেন্দ্র সরকারের কাছে রয়েছে?

পরের বছরই করোনা ভ্যাকসিনের জন্য এই টাকার প্রয়োজন বলে সেরাম কর্তা জানান। তিনি বলেন ভ্যাকসিন সরবরাহ ও উৎপাদনের জন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা কী কেন্দ্র সরকার দিতে পারবে। প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছতে গেলে যে অর্থের ও লোকবলের প্রয়োজন, তার জন্য পরিকল্পনা দরকার। সেই কাজ শুরু করতে হবে কেন্দ্রকেই। সেটাই করোনা মোকাবিলার সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিন পুনাওয়ালা বলেন এই প্রশ্ন তিনি করতে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ এই কাজের জন্য বিশাল পরিকল্পনার দরকার। যে ভ্যাকসিনই প্রথমবার মাস ভ্যাকসিনেশনের জন্য বেছে নেওয়া হোক, তার সরবরাহ এক জটিল পদ্ধতি। এই নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

এদিন তিনি বলেন করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হওয়ার পরেও সবাই তা নাও পেতে পারেন। গোটা বিশ্বে মাস ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লেগে যেতে পারে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ বছর।

২০২৪ সাল পর্যন্ত ভ্যাকসিনের যোগানে কিছুটা হলেও ঘাটতি থাকবে বলে মনে করছেন সেরাম কর্তা। পুনাওয়ালা জানাচ্ছেন বিশ্বের সব মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রগুলির হলেও, বিপুল জনসংখ্যা এই কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে। এই বিশাল সংখ্যায় ভ্যাকসিন উৎপাদন করা খুবই সমস্যার ও সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছেন তিনি।

এখনও পর্যন্ত ভারতে মাস ভ্যাকসিনেশনের জন্য কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়নি। ফলে ৪০০ মিলিয়ন মানুষের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছতে ২০২৪ সালের শেষ পর্যায় পৌঁছবে। ফলে সেরাম পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন উৎপাদন যদি করতেও পারে, তা বন্টন করা সমস্যার হবে।

পুনাওয়ালা বলেন গোটা বিশ্বে ১৫ বিলিয়ন ডোজ দরকার, যদি দুটি ডোজে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। রোটা ভাইরাসের মতোই এই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনও দুই ডোজে দেওয়া দরকার বলে মনে করছেন তিনি।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।