প্রতীকি ছবি

সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান): সম্প্রতি বর্ধমানে প্রচুর টিয়া ও কচ্ছপ উদ্ধার হন। তারপর থেকে খুনের হুমকি পাচ্ছেন স্থানীয় ওয়াইল্ড লাইফ কর্মীরা। উঠে আসছে বাংলাদেশ থেকে বেআইনি পশু পাচার চক্র পরিচালনা করার কাজ। এক ডন মামার করা। সে বাংলাদেশি।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিভাবে নিষিদ্ধ পশু পাখির কেনাবেচা চলছে তা নিয়েই এবার বন দফতরের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নামবে বর্ধমানের একটি পশুপ্রেমী সংগঠন।

কোটি কোটি টাকা কারবারে বাংলাদেশের কয়েকজন জড়িত। সূত্রের খবর, বাংলাদেশে ‘মামা’ নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের মূল মাথা। সে ভারত থেকে পশু পাখি বিভিন্ন দেশে এজেণ্টের মাধ্যমে বিক্রি করে। বর্ডার ম্যানেজ করার মত সবরকমের আঁটঘাটে পাকা হল এই পাচাররীদের মামা।

জানা গিয়েছে পশ্চিমবাংলায় মামার এজেণ্ট হিসাবে কাজ করে ‘বড়দা’। এই বড়দার অধীনে প্রতিটি জেলায় একজন করে এজেন্ট আছে। সেই এজেণ্টরা বিভিন্ন এলাকায় দুজন করে সাব এজেণ্ট আছে। তারাই বিভিন্ন পশুপাখি বিক্রির দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। বর্ধমান শহরের ক্ষেত্রেও দুজন এজেণ্টের হদিশ মিলেছে।

জানা গিয়েছে যে সমস্ত পশু পাখি বেচাকেনায় কোনও আইনত বাধা নেই (যেমন কুকুর, বিড়ল) সে সব বিক্রির আড়ালেই চলছে নিষিদ্ধ পশু পাখি বিক্রি কারবার।

সূত্রের খবর, চাহিদা অনুসারে ডন মামা এই রাজ্যে এই সমস্ত পাখি বা পশু সরবরাহ করে। প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার কাছাকাছি কারবার হয়।

বাজারে রীতিমত চাহিদা রয়েছে আলেকজাণ্ডার টিয়া, হিল ময়না প্রভৃতি গোত্রের পাখি। আকোরিয়ামে রাখার জন্য কচ্ছপ, প্যাঙ্গোলিন বা বনরুই চাহিদাও তুঙ্গে।

বাংলাদেশ থেকে এই সব অপারেট করে মামা। আর ভারতীয় বড়দা।

এরা ট্রেন, বাস বা প্রাইভেট গাড়ির মাধ্যমে পাচার করায়। সম্প্রতি বর্ধমানেই ধরা পড়ে প্রচুর কচ্ছপ। যার মধ্যে বেশ কিছু কচ্ছপ ছিল বিরল প্রজাতির। এছাড়াও বাইরে থেকে নিয়ে আসা বেশ কিছু পশু পাখির চোরাচালান মাঝপথেই আটকাতে সক্ষম হন ওয়ার্ল্ড লাইফের সদস্যরা।

বর্ধমানের এই পশুপ্রেমী সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই পূর্ব বর্ধমান জেলা বনাধিকারিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই কারবার বন্ধ করার জন্য অভিযানে নামতে চলেছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, এই ধরণের পশুপাখির অবৈধ কারবার বন্ধ করতে এই সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিজিতবাবুকে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সম্প্রতি বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর বাজারে দুই ব্যক্তি প্রায় ২০টি বিভিন্ন প্রজাতির টিয়াপাখি বিক্রি করছিল। তাদের হাতেনাতে ধরেন অভিজিতবাবু। বনদফতরের হাতে সেই পাখি তুলে দেওয়া হয়।

অভিজিত মুখার্জ্জীর অভিযোগ, এই পাখি চোরাচালানে যুক্ত রেলের কিছু কর্মী। আর এরপরেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।