আলিপুরদুয়ার: বাতাসে হাঁড়িয়ার গন্ধ ভেসে আসে। তার টানে হামলে পড়ে হাতির দল। ডুয়ার্সের বিভিন্ন গ্রামে এমনই ঘটনা ঘটেছে। পরপর হাতির হানায় কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি ভেঙেছে। জনসাধারণ আতঙ্কিত।

উত্তরবঙ্গে যেমন ডুয়ার্সের বনভূমি সংলগ্ন এলাকা হাঁড়িয়ার টানে হাতির হানা হয়, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গল মহলের কিছু অংশ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় মহুয়া মদের টানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বন ও হাতি বিশেষজ্ঞদের দাবি, বন্য হাতি বা পোষা হাতি মহুয়া বা হাড়িয়া নামক দেশি মদের গন্ধে ঘোর লাগে তাদেরও। সেই টানে তারা ছুটে আসে লোকালয়ে। যেমনটা হয় পাকা ফল বা মরাই এবং মাঠে থাকা ধানের টানেও।

সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে হয়েছে হাতির তাণ্ডব। স্থানীয় বোড়োপাড়ায় গত বুধবার ভোরে হানা দেয় হাতিরা। যে বাড়িতে হামলা করেছিল তারা সেই বাড়িতে ছিল হাড়িয়া। দেওয়াল ভেঙে ঢুক সেই হাড়িয়া পান করে।

এমন অবস্থায় আতঙ্কিত বীরপাড়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। কারণ শুধু রাতেই নয় দিনের বেলাতেও হাতিরা ঢুকে পড়ছে।

জানা গিয়েছে, একই বাড়িতে শুক্রবারও হামলা করে হাতিরা। সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করে। এর পরেই টনক নড়েছে বন বিভাগের। ধারণা করা হচ্ছে, হাঁড়িয়ার গন্ধে আমোদ করেই হাতিরা বার বার হানা দিতে শুরু করেছে।

সরকারি নিয়ম অনুসারে বনবিভাগ মাদারিহাট রেঞ্জ এই ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানিয়েছে।

আদিবাসী এলাকায় হাঁড়িয়া খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। চা শ্রমিক সহ অনেকেই এটি পান করেন। গ্রামবাসীরা বাড়িতে যাতে হাঁড়িয়া না রাখেন তার জন্য অনুরোধ করেছে বন বিভাগ। কারণ, হাঁড়িয়ার গন্ধেই মাঝে মাঝে গ্রামে ঢুকে পড়ে হাতি।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।