তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এখন বন্যপ্রাণী দেখলেই তার উপর চলে নির্যাতন৷ বেশিরভাগ সময় তাকে মেরে ফেলা হয়৷ তারপর আবার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরালও করা হয়ে থাকে৷ কিন্তু এর ব্যতিক্রম দেখা গেল বাঁকুড়ার হীড়বাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়৷

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মহানুভবতা ও সচেতনতার সৌজন্যে প্রাণে বাঁচল নিরীহ বন্যপ্রাণী। বাঁকুড়ার হীড়বাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি পূর্ণবয়স্ক পেঁচা দেখা যায়। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে৷ তাঁরা সেটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে শুশ্রূষার ব্যবস্থা করেন। পরে সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়৷

হীড়বাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাধন চন্দ্র পাল জানান, এদিন স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা ছিল। সেই মোতাবেক সকালের দিকেই শিক্ষকরা স্কুলে আসেন। স্কুলের তালা খোলার পর দেখা যায় ক্যাম্পাসে মধ্যে থাকা একটি বেঞ্চে পূর্ণবয়স্ক ওই পেঁচাটি বসে রয়েছে। শিক্ষকরাই পেঁচাটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক শুশ্রূষার ব্যবস্থা করেন। পরে স্বাভাবিক ও সুস্থ মনে হলে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে পেঁচাটিকে স্থানীয় জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

জঙ্গল ঘেরা হীড়বাঁধ ব্লকে প্রায়শই বন্যপ্রাণীর সন্ধান মেলে। সংবাদমাধ্যমের দৌলতে রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় এই সব নিরীহ বন্যপ্রাণী মেরে ফেলার খবর প্রকাশ্যে আসে৷ কিন্তু হীড়বাঁধ ব্লক এলাকা বরাবরই ব্যতিক্রম ভূমিকা গ্রহণ করে। বন্যপ্রাণী সচেতন মানুষের সৌজন্যে এখানকার জঙ্গল গুলিতে খরগোশ, নেউল, বনশুয়োর সহ অন্যান্য পশু পাখির সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানকার মানুষ বনদফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে।