সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘স্ত্রীর চেয়ে কুমির ভাল বলেন সর্বশাস্ত্রী, ধরলে কুমির ছাড়ে বরং, ধরলে ছাড়ে না স্ত্রী।’ এই কথা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের(Dwijendralal roy) নিজের। বাস্তবেও এমনটাই হয়েছিল। স্ত্রীয়ের ভালোবাসায় তাঁর হাত থেকে বেরিয়েছিল প্রচুর রোম্যান্টিক গান(romantic)। মৃত্যু পাগল করে দিয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলাল রায়কে। তবে বানিয়েছিল নতুন দ্বিজেন্দ্রলালকে। নাট্যকার রূপে মহাপ্রকাশ ঘটে।

স্ত্রীয়ের নাম ছিল সুরবালা (surabala)। তাঁর প্রেমেই একের পর এক প্রেমের গান বেরিয়েছিল হাত থেকে। সন্তানসম্ভবা ছিলেন সুরবালা। সেই অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রাণ কাড়ে তাঁর। এই ঘটনা পাগল করে দেয় দ্বিজেন্দ্রলালকে। বহু সন্তান, তবু বেঁচেছিল মাত্র দু’জন। ছেলে দিলীপকুমার(dilip kumar) ও মেয়ে মায়া। তাঁদের আগলে ধরে। কিন্তু তাও মন মানছিল না। কালাপানি পেরিয়ে যখন কৃষিবিজ্ঞান পড়তে গিয়েছিলেন সেখানে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল দ্বিজেন্দ্রলালের। অনেক দূর গড়িয়েছিল সম্পর্ক। বিয়ে হতে হতে হয়নি। সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছিলেন সুরবালা। তার মৃত্যুতে জীবনের সুর কাটে দ্বিজেন্দ্রলালের।

পানাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন দ্বিজেন্দ্রলাল। হঠাৎ এল পরিবর্তন। নাটক লিখতে শুরু করলেন। নাটক মূলত ইতিহাসাশ্রিত, স্বদেশি চেতনায় ভরপুর। প্রতিবাদের , আন্দোলনের। ১৯০৫ সালে শুরু ‘প্রতাপ’ দিয়ে। নাটকে যোগ হতে থাকে স্বদেশি গান। লিখলেন ‘মেবার পাহাড়’। শুনে মুগ্ধ হলেন জগদীশচন্দ্র বসু। ধীরে ধীরে ‘কীসের দুঃখ কীসের দৈন্য কীসের লজ্জা কীসের ক্লেশ’ এর মত গান। শোনা যায় এই গান তাঁকেই উত্তেজিত করে দিত। বলতেন ‘ও গানটা গায়িতে গেলে আমার কেন জানি না, ভয়ানক মাথা গরম হয়ে উঠে।’ শোনা যায় নাকি ওই গান গাইতে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপে বহু বার অসুস্থও হয়ে গিয়েছিলেন। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের উল্লেখযোগ্য নাটক একঘরে, কল্কি-অবতার, বিরহ, সীতা, তারাবাঈ, দুর্গাদাস, রাণা প্রতাপসিংহ, মেবার পতন, নূরজাহান, সাজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল-বিজয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মস্থান কৃষ্ণনগরে। বাবার নাম কার্তিকেয়চন্দ্র রায়। তিনি কৃষ্ণনগর রাজবংশের দেওয়ান ছিলেন। বাবা কার্তিকেয়চন্দ্র বিশিষ্ট খেয়াল গায়ক ছিলেন। সাহিত্যিকও ছিলেন। বাড়িতে প্রচুর গুণীজন আসত। এমন পরিবেশে বড় হওয়া দ্বিজেন্দ্রলালকে সাহিত্য অনুরাগী করে তুলেছিল।।

১৮৭৮ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় বৃত্তি পান। এফ. এ. পাস কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে। হুগলি কলেজ থেকে বি.এ।. ১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্সি থেকে এমএ. পাস করেন। এরপর কিছুদিন শিক্ষকতা করেন।

সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে যান। সেখানে রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি থেকে কৃষিবিদ্যায় ‘FRAS’ এবং ‘MRAC’ ও ‘MRAS’ ডিগ্রি অর্জন করেন। ইংল্যান্ডেই প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ। নাম লিরিক্স অফ ইন্ড। এরপর দেশে ফিরে সরকারি কাজে নিযুক্ত হন। সঙ্গে চলতে থাকে সাহিত্য চর্চা। তারপরে যা হয়েছে তা ইতিহাস।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.