ওয়াশিংটন : সুবিশাল এই পৃথিবীতে আমাদের চেনা, জানা বা শেখার অন্ত নেই। ক্ষুদ্র হোক বা বৃহৎ প্রতি মুহুর্তেই প্রত্যেকটা জিনিস থেকে আমরা কিছু না কিছু শিখে চলেছি। আর এই শেখার কাজে মুখ্য ভূমিকা যে পালন করে আসছে তা হল মস্তিষ্ক বা ব্রেন। কারণ, এই জীবজগতের অন্যান্য প্রাণিদের সঙ্গে মানুষের সবথেকে বড় পার্থক্য হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কের গঠন, কার্যপদ্ধতি, নিউরন ঘনত্বের আধিক্য আর দেহের অন্যান্য অঙ্গের সঙ্গে এর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষকে অনন্যতা দান করেছে।

যেকোনও কিছু বলা, উপস্থাপন করা বা লেখার কাজে মানব মস্তিস্কের ভূমিকা রয়েছে অপরিসীম। যেকোনও কাজের সময় আমরা চলতি কথায় প্রায়শই বলে থাকি যে, ‘ মাথা খাটিয়ে কাজ করো, ঠিক পারবে।’ কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কী একজন শিশুর জন্মের পর থেকে আমৃত্যু পর্যন্ত শব্দ বা ভাষা লিখতে, পড়তে এবং উচ্চারণ করতে মস্তিস্কের ব্যবহার কীভাবে হয়ে আসছে?

এমনটা কখনও ভেবে দেখেননি তো? আসলে আমরাও ভাবিনি। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় মার্কিন গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, যেকোনও কাজের সময় শব্দ পড়তে বা লিখতে মানব মস্তিস্ক ঠিক কী ভূমিকা পালন করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওহিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। নেচার পত্রিকায় তাঁরা আরও দেখিয়েছেন যে, আমরা মানুষেরা কেন বর্ণমালা পড়ি এবং শব্দগুলি কেন শিখি।

গবেষণা পত্রে বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, মস্তিষ্কে এমন একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে যে, যা মস্তিষ্ককে আলাদা করে দেয় বা বর্ণগুলি এবং শব্দগুলি দেখার জন্য গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তাঁরা দেখিয়েছেন যে, মানব মস্তিষ্কের একটি অংশ পড়তে শেখার ক্ষেত্রে জন্মের সময় “পূর্ব-তারযুক্ত” হয়। একে “ভিজ্যুয়াল ওয়ার্ড ফর্ম এরিয়া” (ভিডাব্লুএফএ) বলা হয় এবং এটি মস্তিষ্কের ভাষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত। যা প্রত্যেক মানুষের ব্রেনেই রয়েছে।

সোজা কথায় বলতে গেলে, সব মানুষই একটি মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। যা অক্ষর এবং শব্দ পড়ার ক্ষমতা রাখে। কোনটি বা কয়টি বর্ণমালা শিখতে হবে তা প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। এক কথায় বলতে গেলে বোঝায়, যত বেশি মগজে শান দেওয়া হবে মানুষ তত বেশি শব্দের ব্যবহার শিখবে, জানবে এবং বোঝার ক্ষমতা তৈরি হবে।

নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণা পত্র অনুসারে, বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের “উর্বর স্থল” শনাক্ত করার জন্য নবজাতকদের মস্তিষ্কের স্ক্যানগুলি বিশ্লেষণ করেছেন যেখানে ভাষার কোনও এক্সপোজারের আগেই “দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সংবেদনশীলতা” বিকাশ লাভ করে বলে জানাগিয়েছে ।

মার্কিন গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, যে ভিজ্যুয়াল ওয়ার্ড ফর্ম এরিয়া বা ভিডাব্লুএফএ মস্তিষ্কের এমন একটি অঞ্চল বা অংশ যা পাঠে বিশেষজ্ঞ বা যেকোনও বিষয় দ্রুত পড়তে সক্ষম। আর এটি কেবলমাত্র শিক্ষিত ব্যক্তিদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। কারণ, যে মানুষ যত বেশি পড়বে বা লিখবে সে তত বেশি ভাষার ব্যবহার জানবে।

শুধু তাই নয়, মস্তিষ্কের এই ভিডাব্লিউএফএ অংশটি যেকোনও কিছু চিনতে, বুঝতে এবং পড়তে সহায়তা করে। তবে বিজ্ঞানীরা বর্তমানে আবিষ্কার করেছেন যে, এটি সত্য নয়। তাঁরা আবিষ্কার করেছেন যে জন্মের সময়, ভিডাব্লউএফএ এর অন্য কোনও অঞ্চলের তুলনায় মস্তিষ্কের ভাষা নেটওয়ার্ক অঞ্চলের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত থাকে। অক্ষর এবং শব্দ শেখার জন্য এটি মস্তিষ্কের প্রাক-ওয়্যারিং শর্ত।

গবেষকরা বলেছেন, “মস্তিষ্কের ভিডাব্লুএফএ ডাইলেক্সিয়ার অবস্থা বুঝতে সহায়তা করতে পারে। এটি এমন একটি শিখন পদ্ধতি যা বিভিন্ন শব্দ এবং বাক্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এছাড়াও পড়াশোনা করার সময় মস্তিষ্কের এই অংশ শিশুদের পড়া বুঝতে সাহায্য করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I