মুম্বই: এনসিপিকে শেষ সুযোগটুকু না দিয়েই বিকেলেই মহারাষ্ট্রে জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করতে চলেছে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে।

সরকার গড়ার ক্ষেত্রে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে শিবসেনা। তবে কি বিজেপির সঙ্গে রাজনীতি থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল শিবসেনা? এই প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক বৈঠকে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, ‘এত তাড়াহুড়োর কি আছে! এটা রাজনীতি। এখন রাষ্ট্রপতি শাসন(৬ মাস) চলবে। এরপর কি হবে কেউ জানে না।’ বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রসঙ্গেও ক্ষোভ উগরে দেন শিবসেনা প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা তো সম্পর্ক ছিন্ন করিনি। বিজেপিই তো আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’

সকাল থেকেই মারাঠা রাজনীতিতে ছিল টানটান উত্তেজনা। সরকার গড়তে এনসিপিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন রাজ্যপাল ভগত সিংহ কোশিয়ারি। এরপর থেকেই প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামে এনসিপি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কংগ্রেস এবং শিবসেনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন শরদ পাওয়ার। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি।

কিন্তু, এর মধ্যেই দুপুর থেকে গুঞ্জন বাড়তে শুরু করে রাষ্ট্রপতি শাসনে সায় দিতে পারে রাজ্যপাল। সরকার গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই জয়পুর থেকে তড়িঘড়ি মুম্বইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু এর মাঝেই কোনও দলই সরকার গঠন করতে না পারায় সাংবিধানিক ভাবে প্রথমে রাজ্যপাল কেন্দ্রকে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেন।

এরপরেই ব্রাজিল সফর বিলম্বিত করে জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে সায় দিয়ে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনকে সুপারিশ করে মন্ত্রিসভা। সেই বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সই করার পরেই সাংবিধানিক ভাবে মহারাষ্ট্রে কার্যকরী হয়ে যায় ৩৫৬ ধারা অর্থাৎ গোটা মহারাষ্ট্র জুড়ে জারি হয়ে যায় রাষ্ট্রপতি শাসন।