জ্যোতিষীদের মতে শনি গ্রহ কারোর উপর দৃষ্টি দিলে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। শনির দৃষ্টি এতটাই খারাপ যে তার কু-প্রভাবে সুখ-শান্তিতে ভরা জীবনও দুর্বিষহ করে তোলে। অভাব দেখা দেয় সংসারে। কিন্তু জানেন কি শনিদেবের কেন এত বেশি রাগ? কেন তিনি এত অল্পেই কূপিত হন?

পুরাণে রয়েছে, বিশ্বকর্মার মেয়ে সঞ্জনার সঙ্গে বিয়ে হয় সূর্যদেবের। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপে প্রায় ঝলসে যায় সঞ্জনা। তাঁর নতুন নাম হয় সন্ধ্যা। ঝলসে গিয়ে স্বামীর প্রতি সব ভালোবাসা হারিয়ে যায় তাঁর। এই অবস্থা থেকে পালাতে নিজেরই একটি অনুরূপ প্রতিকৃতি সৃষ্টি করে সন্ধ্যা। তার নাম দেয় ছায়া। ছায়াকে স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে সে পিতা বিশ্বকর্মার ঘরে পালিয়ে যায়৷

এদিকে সূর্য জানতেই পারে না যে তার স্ত্রী বদল হয়ে গিয়েছে৷ সূর্য ও ছায়ার সন্তান হিসেবে জন্ম নেন শনি। কিন্তু সূর্যের সন্তান জন্মের খবর পেয়ে চিন্তিত বিশ্বকর্মা সন্ধ্যার কাছে সব জানতে চায়। সব শুনে তখনই তাকে স্বামীর গৃহে ফিরে যেতে নির্দেশ দেয়৷ ক্ষুব্ধ সন্ধ্যা ফিরে গিয়ে ছায়াকে মেরে ফেলে৷ এরপর সে নিজে সূর্যের স্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে থাকে। এ ঘটনাও সূর্যের নজর এড়িয়ে যায়। শনির প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করেন সন্ধ্যা।

এরপর সূর্যের ঔরসে সন্ধ্যার গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের জন্ম হয়। ছেলের নাম যম ও মেয়ের নাম যমুনা। এরপর সন্ধ্যা শনিকে তার বাবার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়৷ ক্রমে ছেলে-মেয়েরা বড় হলে তাঁদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সূর্য। সূর্যের নির্দেশে যমকে দেওয়া হয় ধর্মরাজের দায়িত্ব। পৃথিবীর বুকে ধর্মরক্ষার দায়িত্ব তাঁর। যমুনা পবিত্র নদীর রূপ নিয়ে সব পাপ-তাপ ধুয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পায়। কিন্তু বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শনিকে কোনও দায়িত্বই দেওয়া হয় না৷

রাগে-ক্ষোভে একদিন সন্ধ্যাকে লাথি মারে শনি। সেই রাগে শনিকে খোঁড়া হয়ে যাওয়ার অভিশাপ দেন সন্ধ্যা। এই ঘটনার কথা জেনে হতবাক হয়ে যান সূর্য। মা-কে লাথি মারার জন্য শনির ওপর তিনি ক্রুদ্ধ হলেও বেশি অবাক হন সন্ধ্যার ভূমিকায়। একজন মা কী করে তাঁর সন্তানকে এমন অভিশাপ দিতে পারেন, তা ভেবে পান না সূর্য্য। সন্ধ্যার কাছে সব জানতে চান তিনি। সূর্যের জেরায় ভেঙে পড়ে তাঁকে সব জানান সন্ধ্যা।

শনির ওপর এতদিন এত অন্যায় হয়েছে বুঝতে পেরে নিজের ভুল স্বীকার করেন সূর্য্য। শনিকে সৌরমণ্ডলে স্থান দেন তিনি। কর্মফলের দেবতা হিসেবে শনিকে উন্নীত করা হয়। কেউ কোনও অপকর্ম করলে শনির নজর এড়ায় না। শনির হাতে তার শাস্তি নিশ্চিত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।