প্রতীকী ছবি

কলকাতা: ২৬ জানুয়ারি। প্রজাতন্ত্র দিবস। এমন দিনে মোদী থাকেন পিছনের সারিতে। পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সবক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কথা বললেও প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রপতি!

তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দেশের ইতিহাস এটাই বলছে। এটাই নিয়ম। সেই নিয়ম মেনেই কোবিন্দের হাতেই তেরঙ্গা খুলে গিয়ে উড়বে লালকেল্লায়। কিন্তু কেন এমন হয়? কারণ প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে অর্থাৎ ১৫ আগস্ট এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি পতাকা উত্তলন করা হয়।

কিন্তু দুই ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম কেন? যদি ভালো করে কী লক্ষ্য করেন তাহলে দেখা যাবে দিল্লিতে প্রত্যেক ১৫ আগস্ট পতাকা উত্তোলন করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ২৬ জানুয়ারি পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রপতি। এখানেই প্রশ্ন ওঠে। দেশের সাংবিধানিক প্রধান হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতি পতাকা উত্তোলন করেন না কেন?

এর কারণ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতে কোন রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে সেই সময়ে ভারতের কোন সংবিধান ছিল না। সংবিধান লাগু হবার দিনটি থেকেই অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি থেকেই ভারত একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং সংবিধান অনুযায়ী দেশ একজন রাষ্ট্রপতি পায়।

এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি পতাকা উত্তোলন করেন। রাজ্যের ক্ষেত্রে যথাক্রমে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালেরা এই দায়িত্ব পালন করেন।

রাজ্যের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীদের প্রথমে দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবস এই দুই দিনই রাজ্যের রাজধানীতে পতাকা উত্তোলন করতেন রাজ্যের রাজ্যপালেরা।

১৯৭৪ সালে যখন সদ্য প্রয়াত এম করুণানিধি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি কেন্দ্রে একটি চিঠি লিখে দাবি করেন যে দিল্লির নিয়ম মেনে রাজ্যেও স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীরা এবং প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজ্যপালেরা পতাকা উত্তোলন করুন। দিল্লি সেই প্রস্তাব মেনে নেয়।

সেই অনুযায়ী ২০২০-র প্রজাতন্ত্র দিবসেও রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান জগদীপ ধনকরের হাতে পতাকা খুলে গিয়ে আকাশে উড়বে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকবেন মমতা।

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় গণপরিষদ সংবিধান কার্যকরী হলে ভারত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। গণতন্ত্র কার্যকরী হওয়ার ঠিক দুই মাস আগে, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদ কর্তৃক ভারতের সংবিধান অনুমোদিত হয়।

২৬ জানুয়ারি দিনটিকে সংবিধান কার্যকর করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ ১৯৩০ সালের ওই একই দিনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কর্তৃক পূর্ণ স্বরাজের সংকল্প ঘোষিত ও গৃহীত হয়েছিল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I