লন্ডন: বিশ্বকাপ ক্রিকেটে রেকর্ড গড়ল বৃষ্টি। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে মঙ্গলবার ব্রিস্টলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পন্ড হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই রেকর্ড গড়ল বৃষ্টি। সোজাসুজি বলতে গেলে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার নিরীখে নজির গড়ল দ্বাদশ বিশ্বকাপ। এর আগে ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২টি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল এই বৃষ্টির কারণে। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে এখনও দু’সপ্তাহ অতিক্রান্ত করেনি, ইতিমধ্যেই ৩টি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ায় ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙছে ক্রিকেট অনুরাগীদের।

বিশ্বকাপের মত গুরুত্বপূর্ণ আসরে ‘রিজার্ভ ডে’ না থাকায় সুর চড়িয়েছেন অনুরাগীরা। সেমিফাইনালে যোগ্যতা অর্জনের নিরীখে বৃষ্টির কারণে ভাগ হয়ে যাওয়া পয়েন্টগুলো যে পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে, বিলক্ষণ জানেন প্রত্যেকে। এবার ক্রিকেট অনুরাগীদের মতোই ‘রিজার্ভ ডে’ নিয়ে সুর চড়ালেন বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস। সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের পর টানা দ্বিতীয়দিন বৃষ্টির কারণে বাতিল ম্যাচ। পাকিস্তান ম্যাচের পর বাংলাদেশ ম্যাচেও বৃষ্টির কারণে প্রথম ৪ ম্যাচের মধ্যে দু’টি ম্যাচেই আবহাওয়ার শিকার হলেন সিংহলীরা।

বিলেতের জঘন্য আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার উচিৎ ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য রিজার্ভ ডে বরাদ্দ রাখা, মনে করেন শাকিবদের হেডস্যার। ২টি সেমি ফাইনাল ও ১৪ জুলাই ফাইনালের জন্য অতিরিক্ত দিনের ব্যবস্থা থাকলেও গ্রুপ পর্বের ম্যাচের জন্য কোনও রিজার্ভ ডে নেই বিশ্বকাপে। এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রাক্তন ইংরেজ উইকেটরক্ষক জানান, ‘আমারা এখন চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছি। তা বিশ্বকাপের মত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে কেন রিজার্ভ ডে থাকবে। এমনিতেই যখন এটা লম্বা একটা টুর্নামেন্ট।’

রোডসের মতে, ‘আমি দায়িত্বে থাকলে অবশ্যই রিজার্ভ ডে রাখতাম। কারণ আমরা ইংল্যান্ডের এখন আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বকাপকে এখনও অনেক বৃষ্টির মোকাবিলা করতে হবে।’ একইসঙ্গে রোডসের মতে, ‘জানি টুর্নামেন্ট উদ্যোক্তাদের জন্য এটা একটা মাথাব্যথার কারণ। রিজার্ভ ডে রাখাটা খুবই কঠিন একটা সিদ্ধান্ত।’ তবে দু’টি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার দলনায়ক দিমুথ করুণারত্নেও বাংলাদেশ কোচকে সমর্থন জানিয়ে রিজার্ভ ডে’র ব্যবস্থা রাখাটা জরুরি ছিল বলে মনে করছেন।

তবে আইসিসি’র প্রাক্তন সিইও বর্তমানে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সিইও ডেভ রিচার্ডসনের কথায়, ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে রিজার্ভ ডে কোনও কাজ দেয় না।’ আসলে একটি ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আনুষাঙ্গিক নানা বিষয়। সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিচার্ডসন জানান, ‘রিজার্ভ ডে পিচ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে। ভেন্যু অ্যাভাইলেবিলিটি নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থাকে। রিজার্ভ ডে’তে ভলেন্টিয়ার ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের পাওয়া নিয়েও নানা সমস্যা তৈরি হয়। ব্রডকাস্টিংও একটা বড় কারণ এবং সবচেয়ে বড় কথা রিজার্ভ ডে’তে সমর্থকরা জার্ণি করে পুনরায় সেই ম্যাচ দেখতে আসবেন কিনা, তা নিয়ে একটা বড়সড় প্রশ্ন থাকে। পাশাপাশি রিজার্ভ ডে’ও যে বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবেনা, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।’