কলকাতা : নারদাকাণ্ডে ১৩ জনের নামে অভিযোগ। ২০১৪ সালের ঘটনা এটা। ২০১৬ সালে মামলা হয়। এর পর এখন ২০২১- সাল। এতো দিন লাগছে কেন নারোদকাণ্ডের তদন্তে? কেন এই তদন্তে মুকুল রায় (Mukul Ray) , শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) , শঙ্কুদেব পান্ডাকে গ্রেফতার করছে না সিবিআই? এই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তবে সিবিআই (CBI) বলছে পাঁচবার লোকসভার স্পিকারকে (Speaker of Parliament) বলেও অনুমতি পাওয়া যায়নি এই মামলার তদন্তের জন্য।

যে ১৩ জন নারোদাকাণ্ডে অভিযুক্ত তাদের মধ্যে রয়েছেন মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, সৌগত রায়, প্রয়াত সুলতান আহমেদ, অপরূপা পোদ্দার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এরা সাংসদ। মুকুল রায় শুধু রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন ঘটনার সময়। বাকিরা হলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়। এরা সেই সময় ছিলেন বিধায়ক-মন্ত্রী। তাহলে কেন মুকুল , শুভেন্দু অধিকারীকে ধরা হচ্ছে না? তবে কী তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়ে বেঁচে গেলেন তৃণমূলের অভিযোগের মতো?

সিবিআই বলছে অন্য কথা। সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাঁচবার লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেও সাংসদদের বিষয়ে পদক্ষেপ করার জন্য কোনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। প্রথমে লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন ও তার পরে ওম বিড়লার কাছে এই বিষয়ে আবেদন করেও কোনও অনুমতি পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সিবিআই সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে সেই অর্থে কোনও তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে গ্রেফতারের প্রশ্ন উঠছে না।

এদিকে রাজ্যের তিন দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukherjee) , একজন বিধায়ক মদন মিত্র ও প্রাক্তন তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির জন্য বিধানসভার স্পিকারকে কোনও চিঠি দেওয়া হয়নি। বিধানসভার স্পিকার নিজে অভিযোগ করে বলেছেন, “রাজ্যের মন্ত্রিসভা তখন ভোটের জন্য কার্যকরী না থাকলেও স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদে ছিলাম। আমায় কিছু না জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে অনুমোদন চাওয়া হলো কেন? রাজ্যপাল কী ভাবে এই অনুমতি দিতে পারেন? এই অনুমতি যেমন বেআইনি তেমনই এই গ্রেফতার করাও বেআইনি।”

এদিকে আইনজীবীরা বলছেন রাজ্যের মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগের দিন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে দিয়ে রাজ্যের বিধায়ক-সাংসদদের চার্জশিট দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করিয়ে নেয়। তবে কেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সকাল বেলা বাড়ি থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বাড়ি ঘিরে এদের গ্রেফতার করা হলো? এরা সবাই সিবিআইকে তদন্তে সাহায্য করেছেন। কেউ পালিয়ে যাননি। এরা মন্ত্রী-বিধায়ক। তাছাড়া রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এভাবে কেন মন্ত্রী-বিধায়কদের চার্জশিট দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করা হলো সেটা বিওঝা যাচ্ছে না।

এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবিলম্বে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী ও শঙ্কুদেব পান্ডাকে সিবিআই-র গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি বিজেপি বলছে তাহলে সৌগত রায়, অপরূপা পোদ্দার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন বাদ যাবেন?

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.