নয়াদিল্লি: শিখ বিরোধী সংঘর্ষে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার৷ তার আজীবন কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট৷ তার আগে এই গণহত্যার রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা টেনে আনেন গুজরাত ও মুজফফরপুরের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ৷ দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, গত সাত দশকে দেশে অনেক জাতিগত সংঘর্ষ হয়েছে৷ এবং সেই সব ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ৷ কারণ অপরাধীরা কোন না কোনও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে৷ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে শাস্তির হাত থেকে পালিয়ে বাঁচে৷

এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ৮৪’র সংঘর্ষে দিল্লিতে ২৭৩৩ শিখকে নিধন করা হয়েছে৷ গোটা দেশ মিলিয়ে সংখ্যাটা হবে ৩৩৫০৷ কিন্তু এটাই প্রথম জাতিগত সংঘর্ষের ঘটনা নয়৷ এবং শেষ ঘটনাও নয়৷ এমন গণহত্যার নৃশংস ছবি দেশ ভাগের সময় পাঞ্জাব, দিল্লি ও অন্যত্র দেখা গিয়েছিল৷ ৮৪’র শিখ নিধন সেই দুর্বিষহ স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনে৷

২০৩ পাতার রায় পড়তে গিয়ে বিচারপতিরা বলেন, ‘‘১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় লক্ষ লক্ষ হিন্দু মুসলিম ও শিখকে গণহত্যা করা হয়েছিল৷ ৩৭ বছর পর সেই স্মৃতি ফিরে আসে শিখ নিধন ঘটনার মধ্যে দিয়ে৷ ১ নভেম্বর থেকে টানা চারদিন দিল্লিতে ২৭৩৩ শিখকে নির্বিচারে ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল৷ তাদের বাড়ি ঘর ধ্বংস করে দেওয়া হয়৷ দেশের অন্যান্য জায়গাতেও চলে শিখ নিধন যজ্ঞ৷’’

 

বিচারপতিদের আরও সংযোজন তারপরেও এমন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ৷ ১৯৯৩ এর মুম্বইয়ে গণহত্যা, ২০০২ সালের গুজরাতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, ২০০৮ সালের ওড়িশার কান্দামহল এবং ২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশের মুজফফরপুরে সংঘর্ষ উল্লেখ্য৷ এই সব সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করে বিচারপতিরা জানিয়েছেন, মনুষ্যত্বের উপর আঘাত বা গণহত্যা কখনই আইনসঙ্গত নয়৷ যে খামতিগুলি রয়েছে তা শুধরে নিতে হবে৷