আহমেদাবাদ: মহিলারা অশিক্ষিত৷ তাই তাঁকে ভোট দেননি৷ ফলে তাঁরা কোনও পরিষেবা পাওয়ার যোগ্য নন৷ এমনই মন্তব্য রাজস্থানের বিজেপি মন্ত্রীর৷ এক গ্রামীণ সভায় সেই মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন গ্রামের মানুষ৷ সেখানেই জলের সমস্যার কথা তুলে ধরেন মহিলারা৷

তাতেই ক্ষেপে লাল রাজ্যের পানীয় জল সরবরাহ মন্ত্রী কুঁয়ারজি বাভালিয়া৷ সেই সব মহিলাদের অশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেন তিনি৷ তারই সাথে তাঁর মত, এই সব মহিলারা নেহাতই অশিক্ষিত, তাই তাঁকে সবাই মিলে ভোট দেয়নি৷ যদি ভোট দিত, তবে জলের লাইনও চলে আসত ঘরে ঘরে৷

কুঁয়ারজির আক্ষেপ এই এলাকা থেকে তিনি মাত্র ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন৷ তাঁর এই আক্ষেপকেই মোবাইল বন্দী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন একজন৷ বলাই বাহুল্য, নির্বাচনের মুখে এমন ভিডিও ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি৷

উল্লেখ্য, গত বছর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এই নেতা৷ তারপরেই তাঁকে রাজ্যের মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ঠাঁই দেওয়া হয়৷ জাসদান বিধানসভা এলাকা থেকে পরে নির্বাচনে জয়লাভও করেন তিনি৷ কানেসারা গ্রামে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার চালানোর সময় এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে৷ তারপরেই রেগে যান মন্ত্রী৷ সবাই কেন তাঁকে ভোট দেননি? এই প্রশ্ন তুলে তাঁর জবাব, ভোট দেননি, তাই পরিষেবাও পাবেন না৷

কানেসারা গ্রামে পানীয় জলের সংকট দীর্ঘদিন ধরে৷ নলকূপ নেই৷ বাড়ির মহিলাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে গ্রামের অপর প্রান্ত থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয়৷ সেই পরিস্থিতি জানানো হয় মন্ত্রীকে৷ তাঁর সাফ জবাব, আমি সরকারের প্রতিনিধি, চাইলেই কোটি টাকা মঞ্জুর করে জলের ব্যবস্থা করতে পারি৷ কিন্তু যখন আমি ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলাম মাত্র ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলাম৷ কেন সবাই ভোট দেয়নি আমাকে?

তবে কুঁয়ারজির এই মন্তব্যকে রীতিমত কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা হার্দিক প্যাটেল৷ তাঁর মতে বিভেদের রাজনীতি করছেন মন্ত্রী৷ যারা তাঁকে ভোট দেবে না, তাঁরা পরিষেবাও পাবে না, এই ধরণের সস্তা রাজনীতি বিজেপিই করে৷ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে মানুষকে পাশে পাওয়া যায় না বলে পরামর্শ হার্দিকের৷