স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘অধীর যোদ্ধা হ্যায়, যোদ্ধা’৷ শপথের পরেই লোকসভায় কংগ্রেস নেতার পীঠ চাপড়ে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ রাষ্ট্রপতির জবাবি ভাষণ বিরোধী বেঞ্চ থেকে সেই ‘যোদ্ধা’র-ই চড়া সুর শুনলেন মোদী এন্ড কোম্পানি৷

সপ্তদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনের ভাষণে মন ছুঁয়েছিলেন অধীর চৌধুরী৷ ট্রেজারি বেঞ্চ থেকেও প্রশংসা শোনা যায়৷ কিন্তু, তাতে এদিনের ভাষণে সৌজন্যের সঙ্গেই ছিল শাসকেরর প্রতি কটাক্ষও৷ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সামনেই অধীর বলেন, যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা আসলে সরকার লিখে দেয়। মন্ত্রিসভায় তা অনুমোদিত হয়। তার মানে এটা সরকারেরই কথা৷ চড়া মেজাজের তখনই আন্দাজ মিলেছিল৷

আরও পড়ুন: মোদীকে ‘গন্ধি নালি’র সঙ্গে তুলনা করে বিতর্কে অধীর

এরপরই, চোখা চোখা উপমায় বিজেপিকে বিঁধতে থাকেন অধীর৷ গঙ্গার সঙ্গে গঙ্গা জলের তুলনা টেনে সমালোচনা ছুঁড়ে দেন মোদীর দিকে৷ বর্তমান সরকারে আত্মদম্ভিকতা নিয়েও সরব হন৷ গালে হাত দিয়ে কপাল কুঁচকে মোদী তখন শুনছেন ‘যোদ্ধা’র বাক্যবাণ৷

কথার ফাঁকেই লোকসভার কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘‘আপনারা তো টুজি, কয়লা দুর্নীতির কথা বলেছিলেন। সনিয়া গান্ধী আর রাহুল গান্ধীকে চোর বলে ভোটে জিতে এসেছেন৷ কই ওঁদের জেলে ঢোকাতে পারেননি৷ ওঁরা তো এখানেই বসে রয়েছেন৷ মানুষের ভোটে জিতে এসেছেন৷’’ লোকসভা ভোটের প্রচারে মোদীর বিরুদ্ধে রাফায়েল কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনে হাত শিবির৷ যদিও সেই অভিযোগে ভোট বৈতরণী পার হতে পারেনি রাহুল, সোনিয়া গান্ধীরা৷ উল্টে দেশজুড়ে তাদের বিপর্যয়ই হয়েছে৷ এদিন অধীরের সংসদে বক্তৃতার সময়ও সেই টিপ্পনি ধেয়ে আসে৷ তার প্রেক্ষিতেই সোনিয়া, রাহুল গান্ধী প্রসঙ্গ টেনে আনেন বহরমপুরের সাংসদ৷

ওড়িশার বিজেপি সাংসদ তথা প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ সারেঙ্গি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করতে করতে এক সময় তাঁকে স্বামী বিবেকানন্দর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন৷ যার প্রতিবাদে এদিন লোকসভায় মুখর হতে দেখা যায় অধীররঞ্জন চৌধুরীকে৷ প্রতাপ সারেঙ্গিকে উদ্দেশ্য করে বহরমপুরের ‘রবীনহুড’ বলেন, “নরেন্দ্র মোদীকে নরেন্দ্রনাথ দত্তের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলবেন এটা ঠিক না”৷ এর পরেই তিনি বলেন, “কোথায় মা গঙ্গা, আর কোথায় গন্ধা নালি৷’’

আরও পড়ুন: কাটমানি নয়, মুখ্যমন্ত্রী ‘তৃণমূল তোলাবাজি ট্যাক্স ‘ ফেরত দিচ্ছেন: জয়প্রকাশ

অধীরের এই মন্তব্যের পরই বিজেপি সাংসদরা হইচই শুরু করেন অধিবেশনে৷ পালটা দলের নেতাকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন করেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী৷ অধিবেশনেই অবশ্য মোদীর প্রতি তাঁর সম্মানের কথা জানিয়ে দেন বাংলায় কংগ্রেসের এই ‘ডাকাবুকো’ নেতা৷

বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে অধীরের প্রশ্ন, ‘‘নিউ ইন্ডিয়ার কথা বলছে বিজেপি৷ কিন্তু তার আগে কী কিছুই হয়নি? কেন নেহেরুর কথা বলবেন না আপনারা?’’ সেই সময়ই ট্রেজারি বেঞ্চ কংগ্রেস সাংসদকে মনে করিয়ে দেয়, ‘‘ইন্ডিয়া ইজ ইন্দিরা। ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া’’৷ এই স্লোগান কারা দিয়েছিল মনে করে দেখা হোক৷