স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দিল্লির ঘটনায় সংযত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন যাদবপুরের সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী। তাঁর মতে, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই দায় সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

দিল্লি হিংসায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন। আধাসেনা নামানোর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না৷ এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক করবেন আগামী শুক্রবার। তার আগে মঙ্গলবারই ভুবনেশ্বরে চলে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, দেশ জুড়ে সবাই যখন সোচ্চারে বিজেপি’র দিল্লিকাণ্ডের নিন্দা করছেন, তখন অমিত শাহের পাশে নীরব সমর্থন নিয়ে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে হিংসার ঘটনা কারা ঘটাচ্ছে কিংবা কেন ঘটছে, কিছুই না কি জানেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী৷ অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করতে যাওয়ার আগে তিনি দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদীদের হিংসা নিয়ে চুপ করে রইলেন কেন?

সুজন বলেন, বিজেপি’র সাংসদ গৌতম গম্ভীরও যখন দিল্লির ঘটনায় দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোলাটে বিবৃতি দিয়ে কী আড়াল করতে চাইছেন? সুজন বলেন, তিনি বলেন, আরও একবার টেবিলের তলার সমঝোতা প্রকাশ্যে চলে এল।

ভুবনেশ্বরে অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করতে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মমতা নিজেই সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘দিল্লিতে যা চলছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, আমরা নজর রাখছি। কিন্তু কেন এ সব চলছে, আমি জানি না।’’ তিনি এ কথাও বলেছেন, ‘‘প্লিজ এটা নিয়ে পলিটিক্স করবেন না। যা চলছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। কিন্তু কেন এ সব চলছে, তা আমি জানি না।’’ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি, সবারই শান্তি রক্ষা করা দরকার। আমাদের দেশ শান্তির দেশ।’’

এদিন দিল্লিতে অশান্তি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ করেছেন সিপিএম নেতারা। অমিত শাহের ইস্তফা চেয়ে সোচ্চার হয়েছন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।