শশী ঘোষ৷

কলকাতা: বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কেন নিরপেক্ষ তদন্ত হচ্ছে না? কেন সারদা সারদা বলে বাকি বেআইনি সংস্থাগুলিকে আড়াল করা হচ্ছে? কেন অ্যালকেমিস্ট, রোজভ্যালি, এমপিএস, পিনকনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিআইডি? সারদা মামলায় প্রায় তিন বছর বিচারাধীন বন্দি অবস্থায় থাকার পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার এক বছর পর ফের চিটফান্ডকাণ্ডে মুখ খুললেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ কুণাল ঘোষ৷

চিটফান্ডকাণ্ডে মুখ খুলে মুকুল রায় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ৷ চিটফান্ডকাণ্ডে সিআইডি সব জেনেও অ্যালকেমিস্ট ও রোজভ্যালি, এমপিএস, পিনকনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিআইডি৷ ভিন রাজ্যে অ্যালকেমিস্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হলেও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা হাত গুটিয়ে বসে আছে বলে এদিন অভিযোগ তোলেন কুণাল ঘোষ৷

শনিবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘‘শুধু সারদা সারদা করে বিষয়টি একপাশে করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ সারদার তদন্তের নামে বাকি চিটফান্ডসংস্থাগুলিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ কেন অ্যালকেমিস্ট, রোজভ্যালি, এমপিএস, পিনকনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিআইডি?’’ মন্তব্য করেন, ‘‘চিটফান্ড কেলেঙ্কারি বললেই কেবল সারদা সারদা করা হয় কেন? রোজভ্যালি থেকে আইকোর, কেন এসব নাম আসে না? কেন অ্যালকেমিস্টের মালিককে সিবিআই, সিআইডি গ্রেফতার করে না, মুকুল রায় বলুন।’’

এদিন সিআইডির বিরুদ্ধে তোপ দেগে কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘‘কিছু কিছু বিষয়ে দেখছি সিআইডি খুব ছোটাছুটি করছে৷ নারদকাণ্ডে তদন্তের জন্য এর বাড়ি ওর বাড়িতে ছুটে যাচ্ছে সিআইডি৷ সিআইডির তৎপরতা দেখে ভালোই লাগছে৷ কিন্তু, যে অ্যালকেমিস্টের বিরুদ্ধে অন্য রাজ্যে মামলা দায়ের হয়েছে৷ কিন্তু, কী করছে সিআইডি৷’’

যদিও, এর আগে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তৃণমূল সাংসদ তথা অ্যালকেমিস্ট কর্ণধার কে ডি সিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের হয়৷ কালীঘাট থানাতেই তিনটি পৃথক অভিযোগ হয় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে। কিন্তু, তার পরেও তদন্তে কোনও গতি আসেনি বলেও এদিন জানান কুণান৷

কেডি সিংয়ের কোম্পানি অ্যালকেমিস্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে আদালতের কাছে আর্জি জানায় রাজ্য পুলিশের ইকনমিক অফেন্স উইং। কেডি সিংয়ের সংস্থার কোথায় কত সম্পত্তি রয়েছে তা নিয়ে খোঁজ খবরও শুরু হয়৷ সেই তালিকা পুরো তৈরির পর তা বাজেয়াপ্ত করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়৷ কিন্তু, সেই টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে আমানতকারীদের অভিযোগ৷

অ্যালকেমিস্ট নিয়ে বিতর্কের মাঝেই কোটি কোটি টাকায় প্রতারণার মামলায় আগেই গ্রেফতার পিনকন সংস্থার মালিক মনোরঞ্জন রায়৷ এবার খেজুরি থানার এক মামলার ভিত্তিতে নিউ দীঘার একটি হোটেলে হানা দেয় রাজ্য ইকোনমিক্স অফেন্স৷ হোটেল কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ জেরা করে তারা৷ জেরা শেষে হোটেলটি সিল করে দেয় ইকোনমিক্স অফেন্সের প্রতিনিধিদল৷