স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তাপস পালের মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বললেন, ‘শিল্পীকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নোংরা রাজনীতি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা দিদির পক্ষেই সম্ভব’৷মমতার উদ্দেশে বাবুলের প্রশ্ন, ‘‘সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো দেখতে ভুবনেশ্বরে গিয়েছিলেন, পাশের ঘরেই তাপস পাল ছিলেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন না কেন?’

এদিন রবীন্দ্র সদনে তাপস পালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তাপস পাল, সুলতান আহমেদ এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর অকাল প্রয়াণের জন্য স্পষ্ট ভাষায় মোদী সরকারকেই দায়ী করেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজেপির চাপে পড়ে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে গিয়েছে আমাদের তিন জন।”

মমতা বলেন, ‘‘তাপস পালের মৃত্যু আবার প্রমাণ করল, একটা এজেন্সির অত্যাচারে একটা মানুষ নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল, ক্ষতবিক্ষত ছিল, হয়তো মৃত্যুর আগে জানলও না ওর কী অপরাধ ছিল…কী খেলা আমি জানি না। অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, বিচার করুন। এতদিন জেলের মধ্যে বন্দি করে রাখার কী কৌশল এটা! কেন্দ্রের জঘন্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ থেকে কেউই রেহাই পাচ্ছে না।”

এই মন্তব্যের পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে বাবুল বলেন, ‘‘তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছি। রবীন্দ্রসদনে একজন শিল্পীর মৃতদেহ শায়িত রয়েছে, তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নোংরা রাজনীতি টেনে এনেছেন মমতা। ভুবনেশ্বরে সুদীপকে দেখতে গিয়েছিলেন দিদি, পাশের ঘরে তাপস পাল ছিলেন, কেন দেখা করলেন না? যে কারণে তাপস পালের মানসিক চাপ ছিল, তাতে রাজনীতি টেনে আনা দিদির পক্ষেই সম্ভব। তাপস দা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ওঁর সঙ্গে আমার বহুদিনের সম্পর্ক। তৃণমূল যে কাজের মধ্যে লিপ্ত থাকে, তাতে তাপসদা’র মতো সহজ-সরল মানুষের জড়িয়ে পড়া, কতটা শান্তি পেয়েছিলেন উনি, তা মানুষ প্রশ্ন তুলছে’’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, ‘‘কারও মৃত্যুতে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জানা উচিত, মাঠে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক কথা বলুন, অসুবিধে নেই। কিন্তু মৃতদেহকে সামনে রেখে যে মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক চিন্তার দিক থেকে বিকৃত ভাবনা ছাড়া কিছু নয়’’।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প