স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, ‘‘আঘাত হলে প্রত্যাঘাত হবে – ইট মারলে পাটকেলখেতে হবে৷’’বনধ আটকাতে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর ২৪ পরগণার নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সিপিএম-কংগ্রেসকে ‘উত্তম-মধ্যম’দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন৷

বনধ সমর্থকদের বুধবার তৃণমূল কংগ্রেস ‘উচিত শিক্ষা দেবে’ – বলেছেন জ্যোতিপ্রিয়৷ জ্যোতিপ্রিয়র হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সিপিএম তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করবে৷ রাজ্যের একাধিক থানায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই এফআইআর করা হবে৷ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র মঙ্গলবার বলেন, ‘‘পুলিশ যদি এফআইআর না নিতে চায় তবে আমরা কোর্টে মামলা করব৷’’

দশ ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে সিপিএম সমর্থকরা বাস ভাঙচূর করেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে রাজ্য সরকার৷ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বনধ আটকাতে বিজেপিকে রাস্তায় ঝান্ডা হাতে নামতে দেখা যায়নি৷ কিন্তু বনধ সমর্থনকারীদের মারধোর করেছে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ সাহায্য করেছে পুলিশ৷ ‘‘বোঝা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নরেন্দ্র মোদীর অনুগত সৈনিক’’- দাবি করেছে সিপিএম৷ বনধে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে সূর্যকান্ত মিশ্র যা বলেছেন :-

১. আক্রমণের মুখে গত ৪০ বছরে এই ধরণের বনধ হয়নি৷ সব জেলাতেই বনধ সফল৷

২. প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সব থেোকে বড় গুণগ্রাহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনধ আটকাতে সকল প্রচেষ্টা করেছেন৷ পারেন নি৷

৩. সারা জেলায় ১০০০ নেতা-কর্মী-সমর্থক গ্রেফতার হয়েছে৷ ১১৫ জন আহত হয়েছে৷

৪. পুলিশ এবং তৃণমূল একযোগে পার্টি আফিস আক্রমণ করেছে৷

৫. সরকার রাস্তায় বাস চালিয়েছে৷ কিন্তু বাসে যাত্রী ছিল না৷ তৃণমূলের নেতারা ভয় দেখিয়ে দোকান খুলিয়েছে৷ এমন কী পুলিশও দোকান খুলিয়েছে৷ কিন্তু ক্র্রেতা ছিল না৷

৬. বেসরকারি স্কুল বন্ধ ছিল৷ সিপিএম নাকি স্কুল বাসে ভাঙচূর চালিয়েছে৷ মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে৷

৭. রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি শাহু সহ একাধিক সিটু কর্মী, বিধানসভায় বাম পরিষদিয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী গ্রেফতার হয়েছেন৷ দক্ষিণ দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়ির জেলা সম্পাদককে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ মহিলা নেত্রীরা গ্রেফতার হয়েছেন৷

৮. বুধবারের রণনীতি বলা হবে না৷ বুধবার সিটু-সিপিএম নতুন কিছু পরিকল্পনা নিয়ে বনধ করতে নামবে৷ সূর্যকান্তবাবুর বক্তব্য, তুরুপের তাস দেখানো যাবে না৷